DA: কবে ঢুকবে বকেয়া ডিএ? টাকা মেটানোর দিনক্ষণ জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি রাজ্যে

কলকাতা রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য বড় ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। রবিবার বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) জানান, সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশ মেনে বকেয়া ডিএ (DA) মেটানো হবে। তার পরেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করল রাজ্য প্রশাসন। সেই বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কার করে জানানো হয়েছে, কীভাবে এবং কত দফায় বকেয়া ডিএ দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: Left Candidate List: ১৯২ আসনে প্রার্থী ঘোষণা বামফ্রন্টের, তালিকায় মিনাক্ষী-বিকাশ-দীপ্সিতা

সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে জমে থাকা ডিএ (DA) ও ডিআর-এর এরিয়ার দুই কিস্তিতে মেটানো হবে। প্রথম কিস্তির টাকা চলতি বছরের মার্চ মাসেই পাবেন রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা। আর বাকি অংশ দেওয়া হবে সেপ্টেম্বর মাসে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, গ্রুপ এ, বি এবং সি শ্রেণির কর্মীদের বকেয়া ডিএ (DA) সরাসরি তাঁদের পিএফ অ্যাকাউন্টে জমা করা হবে। অন্যদিকে গ্রুপ ডি কর্মী এবং পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে সেই অর্থ সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।

তবে ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে জমে থাকা ডিএ বকেয়া কবে মেটানো হবে, তা এখনও নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। পরবর্তী সময়ে সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে।

প্রসঙ্গত, বহুদিন আগেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার (Mamata Banerjee) যায় সুপ্রিম কোর্টে। সেখানেও আদালত স্পষ্ট জানায়, ডিএ কোনও অনুগ্রহ নয়, এটি কর্মীদের আইনি অধিকার। তাই বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ দু’দফায় মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

শীর্ষ আদালত জানায়, প্রথম কিস্তি ৩১ মার্চের মধ্যে দিতে হবে এবং দ্বিতীয় কিস্তি মে মাসের মধ্যে মেটাতে হবে। পরবর্তীতে বাকি টাকার নিষ্পত্তি কীভাবে হবে, তা ঠিক করবে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা (Indu Malhotra)-র নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি।

তবে আদালতের এই নির্দেশের পরেও এখনও পর্যন্ত ডিএ পাননি রাজ্যের বহু সরকারি কর্মী। রাজ্য সরকারের দাবি, বকেয়া ডিএ মেটাতে প্রায় ৩ লক্ষ ১৭ হাজার কর্মীর নথি যাচাই করতে হচ্ছে। ২০১৬ সালের আগের অধিকাংশ তথ্য ডিজিটাল নয়, বরং হাতে লেখা সার্ভিস বুক আকারে সংরক্ষিত রয়েছে। সেগুলি ডিজিটাইজ করতে সময় লাগছে বলেই আদালতে জানিয়েছিল রাজ্য।

প্রশাসনিক জটিলতা এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করে ডিএ মেটানোর জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়েছিল রাজ্য সরকার। এই দীর্ঘ টানাপোড়েনের মধ্যেই অবশেষে ডিএ মেটানোর পথে এগোল রাজ্য প্রশাসন, ফলে স্বস্তি ফিরেছে সরকারি কর্মী মহলে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole