নিউজপোল ব্যুরো: মঙ্গলবার ভোর হতেই রাজ্যের একাধিক জায়গায় একসঙ্গে তল্লাশি শুরু করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা NIA। বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ বা JMB-র শাখা হিসেবে তদন্তকারীরা যে ‘ইমাম মাহমুদের কাফিলা’ বা IMK-কে দেখছেন, সেই মামলার সূত্র ধরেই এই অভিযান। পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও কেরল মিলিয়ে মোট ১৬টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে NIA-র তথ্য উদ্ধৃত করে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে বাংলায় ধরা পড়েছেন চারজন।
পশ্চিমবঙ্গের মঙ্গলকোট, বজবজ, বলরামপুর ও নরেন্দ্রপুরে অভিযান চালানো হয়। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন মঙ্গলকোটের পালিশগ্রামের ইমাম পিয়ার মহম্মদ শেখ, বজবজের জুম্মান শেখ, বলরামপুরের শাহারুল পুরকায়েত এবং নরেন্দ্রপুরের আবদুর রফিক। তাঁদের বিরুদ্ধে IMK-র সঙ্গে যোগ থাকার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে NIA। অভিযানের সময় মোবাইল ফোন-সহ একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস ও নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই মামলার সূত্রপাত অসমে হওয়া একটি তদন্ত থেকে। তদন্তকারীদের দাবি, বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত ‘Purva Akash’ নামে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে তরুণদের উগ্রপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছিল। পরে তদন্তের দায়িত্ব NIA-র হাতে যায়। সংস্থার দাবি, পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতে এই নেটওয়ার্কের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা হয়েছিল।
মঙ্গলকোটে অভিযান ঘিরে আলাদা করে চাঞ্চল্য ছড়ায়। পালিশগ্রামের একটি মসজিদে তল্লাশি চালানোর পর ইমাম পিয়ার মহম্মদ শেখকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে একটি ডায়েরি ও মোবাইল পাওয়া গিয়েছে বলে খবর। তাঁর বাংলাদেশ যাতায়াতের তথ্যও তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে পরিবার ও স্থানীয়দের একাংশ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারিতেও NIA অভিযান চালায়। সেখানে মজিবুর রহমান নামে এক যুবকের খোঁজে তল্লাশি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তিনি বর্তমানে পলাতক কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
