নিউজপোল ব্যুরো: রাতের হাওড়া স্টেশন। প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে বন্দে ভারত। আচমকাই শুরু গুলির শব্দ। বন্দুক হাতে ছুটছেন জওয়ান, চারদিক ঘিরে ফেলেছে নিরাপত্তারক্ষীরা। পরিস্থিতি দেখে মনে হতে পারে সত্যিই যেন জঙ্গি হামলা হয়েছে। কিন্তু আতঙ্কের কিছু ছিল না। আসলে সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদী হামলা হলে কীভাবে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, সেই প্রস্তুতিই যাচাই করতে হাওড়া স্টেশনে চলল বড়সড় যৌথ মহড়া।
টানা দু’দিন ধরে মধ্যরাতে এই বিশেষ সন্ত্রাসবিরোধী মহড়া চালানো হয়। বন্দে ভারতকে ঘিরে তৈরি করা হয় হামলার মতো পরিস্থিতি। এরপর সেখানে ঢুকে ‘জঙ্গিদের’ মোকাবিলা এবং ট্রেনকে নিরাপদ করার অনুশীলন করে ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড বা NSG। পুরো অপারেশনের দায়িত্বে ছিল NSG-এর ২৯ স্পেশাল কম্পোজিট গ্রুপ।
মহড়ায় শুধু NSG নয়, একসঙ্গে মাঠে নামে একাধিক নিরাপত্তা ও জরুরি পরিষেবা সংস্থা। রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স বা RPF-এর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স, রাজ্য পুলিশ এবং দমকলের কর্মীরাও অংশ নেন। সম্ভাব্য হামলার পরিস্থিতিতে কে কোন দায়িত্ব পালন করবে, কীভাবে দ্রুত বাহিনীগুলির মধ্যে যোগাযোগ তৈরি হবে এবং কীভাবে যাত্রী ও ট্রেনকে নিরাপদ করা হবে—সবটাই অনুশীলনের মাধ্যমে যাচাই করা হয়।
NSG-এর তরফে জানানো হয়েছে, এই মহড়ার উদ্দেশ্য শুধু ‘জঙ্গি নিকেশ’ করা নয়। বড়সড় সঙ্কট তৈরি হলে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় কতটা দ্রুত হচ্ছে, তথ্য আদান-প্রদানে কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না এবং জরুরি মুহূর্তে কত তাড়াতাড়ি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব—সেই বিষয়গুলিও পরীক্ষা করা হয়েছে।
