Jiban Krishna Saha: ‘২৫ হাজার জীবন শেষ, এখনো অনুতাপ নেই’, জীবনকৃষ্ণ সাহার জামিন খারিজ, ইডির যুক্তিতে সায় আদালতের

কলকাতা রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের চাপে তৃণমূল (TMC) বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা (Jiban Krishna Saha)। বৃহস্পতিবার ইডির (Enforcement Directorate) বিশেষ আদালতে তার জামিন আবেদন খারিজ করে বিচারক সরাসরি মন্তব্য করেন, “২৫ হাজারের বেশি মানুষের জীবন নষ্ট হয়ে গিয়েছে, এই অপরাধ ক্ষমার নয়।” বিচারকের এই মন্তব্যেই স্পষ্ট, আদালতের চোখে জীবনকৃষ্ণের (Jiban Krishna Saha) বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ গুরুতর এবং সমাজের উপর তার প্রভাব ভয়াবহ।

আরও পড়ুন: Mithun Chakraborty: ‘ছাব্বিশে হারলে বিজেপির অস্তিত্ব থাকবে না’, মিঠুন চক্রবর্তীর হুঁশিয়ারি

এদিন আদালতে উপস্থিত ইডির আইনজীবী জানান, জীবনকৃষ্ণ (Jiban Krishna Saha) এই দুর্নীতির অন্যতম মূলচক্রী। তদন্তে উঠে এসেছে, চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া কোটি কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ঘুরে পৌঁছেছে এক ‘বড় মাথা’র হাতে। ইডির দাবি, জীবনকৃষ্ণ কেবল একজন ‘মধ্যস্থ’ নন, বরং একটি সুসংগঠিত আর্থিক চক্রের সক্রিয় অংশ। তদন্তকারীদের মতে, দুর্নীতির এই জাল যেন পেঁয়াজের খোসার মতো একটি স্তর উঠলেই আরেকটি নতুন স্তর সামনে আসে।

ইডি জানিয়েছে, চাকরিপ্রার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য থেকেই নতুন প্রমাণ মিলেছে কে কত টাকা দিয়েছে, সেই টাকা কীভাবে ঘুরে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে, সবই স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। ইডির সওয়ালে প্রভাবিত হয়ে বিচারক জানান, “এই অপরাধের প্রভাব কেবল আর্থিক নয়, এটি সমাজের বিশ্বাসকে ভেঙে দিয়েছে। ২৫ হাজার চাকরিপ্রার্থীর জীবন এভাবে নষ্ট করা কোনও সাধারণ অপরাধ নয়।”

জীবনকৃষ্ণের আইনজীবীরা অবশ্য যুক্তি দেন, তাঁর মক্কেল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। কিন্তু আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি। বিচারক বলেন, “প্রমাণ নিজেরাই কথা বলছে।” ফলে জীবনকৃষ্ণকে ফের ইডির হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, এর আগে একই মামলায় সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন জীবনকৃষ্ণ সাহা, পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। কিন্তু ইডির নতুন তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে আবারও তাকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় তৃণমূলের অস্বস্তি বেড়েছে বহুগুণ। বিরোধীরা বলছে, “শাসক দলের দুর্নীতির কালো দাগ ক্রমে আরও স্পষ্ট হচ্ছে।”

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole