নিউজপোল ব্যুরো: ভোরের ঘুম ভাঙার আগেই বাড়িতে ঢুকে স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। শনিবার মালদার ইংরেজবাজার থানার নতুন নঘরিয়া নিচুটোলা এলাকায় এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। রক্তাক্ত অবস্থায় কস্তুরি বিবি নামে ওই মহিলাকে উদ্ধার করে দ্রুত মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার সময় কস্তুরি ঘুমোচ্ছিলেন। সেই সময় তাঁর স্বামী নুর আলম শেখ বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে আঘাত করেন। আচমকা হামলায় গুরুতর জখম হন কস্তুরি। ঘটনার পর আর সেখানে থাকেননি অভিযুক্ত। হামলার পর থেকেই নুর আলম পলাতক বলে জানিয়েছে পরিবার। তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১২ বছর আগে নুর আলমের সঙ্গে কস্তুরির বিয়ে হয়। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। কস্তুরির পরিবারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মধ্যে থাকতে হয়েছে। কয়েক মাস আগেও নুর আলমের বিরুদ্ধে ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছিল বলে পরিবারের দাবি। এরপর সন্তানদের নিয়ে বাপের বাড়িতে থাকতে শুরু করেন কস্তুরি।
জানা গিয়েছে, নুর আলম পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক। প্রায় এক মাস আগে কাজের জন্য ভিন রাজ্যে গিয়েছিলেন তিনি। ঘটনার তিন দিন আগে বাড়ি ফেরেন। এরপরই শনিবার ভোরে এই হামলার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর স্থানীয়রা এবং কস্তুরির পরিবারের সদস্যরা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। ইতিমধ্যে ঘটনার বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিবাদের জেরে এই হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশের অনুমান। তবে এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত নুর আলমের সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কস্তুরির চিকিৎসা চলছে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। তাঁর শারীরিক অবস্থার দিকে নজর রাখছেন চিকিৎসকরা। এদিকে অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি তুলেছে পরিবারের সদস্যরা।
