নিউজপোল ব্যুরো: ৭০০ বিরোধী নেতা-কর্মীকে আটক, প্রিজন ভ্যানে চ্যাংদোলা আর রাজপথে তুমুল ধস্তাধস্তি— তবুও দমানো গেল না বিরোধীদের সুর! শনিবার ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে পা রাখতেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে আরও মারাত্মক রূপ নিল পরিস্থিতি। ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করলে দেশের প্রতিটি কোণা থেকে হাজার হাজার মানুষ দিল্লির দিকে লং মার্চ শুরু করবে। এরই মধ্যে দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আগামী ১০ অক্টোবর পুনরায় যন্তর মন্তরে নজিরবিহীন বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়ায় প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
শুক্রবার দিল্লির পাশাপাশি মুম্বইয়ের রাজপথেও ঝড়ের মতো আছড়ে পড়ে এই আন্দোলনের আঁচ। মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক প্রতিবাদস্থলে হাজার হাজার সমর্থকের পাশাপাশি ককরোচ জনতা পার্টিকে নৈতিক সমর্থন জানাতে উপস্থিত হন বিনোদন জগতের স্বনামধন্য তারকারা। অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ সরাসরি অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং অভিনেত্রী শাবানা আজমিও এই ঐতিহাসিক প্রতিবাদের ময়দানে যোগ দেন। অন্যদিকে কলকাতাতেও রানি রাসমনি রোড থেকে গান্ধীমূর্তি পর্যন্ত বিশাল মিছিল করে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেয় বামপন্থীরা। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর বিস্ফোরক প্রতিবেদন ফাঁসের পর জ্ঞানেশ কুমারের ওপর চাপ এখন আকাশচুম্বী। অতীতে যে ককরোচ পার্টির আন্দোলনের মুখে পড়ে নরেন্দ্র মোদী তাঁর শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরাতে বাধ্য হয়েছিলেন, সেই একই শক্তির মোদী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এই অবাধ্য লড়াই কাঁপিয়ে দিচ্ছে রাজধানী।
পরিস্থিতির চরম সংবেদনশীলতার মাঝেই সমাজমাধ্যমে এক অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা পোস্ট করেছেন অভিজিৎ দীপকে। তিনি সাফ লিখেছেন, “মহাত্মা গান্ধীর দেখানো পথে আমাদের আন্দোলন হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। যেখানেই দিল্লি পুলিশ পথ আটকাবে, সেটাই হয়ে উঠবে আমাদের নতুন যন্তর মন্তর! আমাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করতে দেওয়া হবে, নাকি গত ২০ জুলাইয়ের মতো বর্বরতা চালানো হবে— তা ঠিক করবে সরকার ও পুলিশ।”
