নিউজপোল ব্যুরো: নেতাদের গ্রেফতার করলেও আন্দোলনের গতি থামানো যাবে না—এই বার্তা দিয়ে দিল্লির প্রস্তাবিত বিক্ষোভের আগে সরব হলেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA)-এর সভানেত্রী নেহা বোরা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে শনিবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। তার আগেই আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে একাধিক বার্তা দিয়েছেন তিনি।
নেহা বোরার অভিযোগ, বিক্ষোভের প্রস্তুতির মধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় মানুষকে বাড়িতে আটকে রাখার মতো ঘটনা ঘটছে। পুলিশের তরফে কর্মসূচির আয়োজকদের খোঁজ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। তাঁর আরও অভিযোগ, দিল্লিগামী ট্রেন চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং বিক্ষোভের আগে ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আধা-সামরিক বাহিনী, সেনা এবং বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে বলেও দাবি করেছেন AISA নেত্রী। তবে এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিকে কার্যত অঘোষিত জরুরি অবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছেন নেহা। ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সে সময় বহু স্বাধীনতা সংগ্রামীকে গ্রেফতার করেও আন্দোলন বন্ধ করা যায়নি। তাঁর বক্তব্য, একইভাবে বর্তমান প্রতিবাদও গ্রেফতারির চাপে থামবে না। আন্দোলনে অংশ নিতে যাঁরা দিল্লি পৌঁছবেন, তাঁদের প্রতি তাঁর আহ্বান, কোনও আয়োজককে আটক করা হলে অন্যরা যেন আন্দোলনের দায়িত্ব নিজেদের হাতে তুলে নেন।
নেহার পরামর্শ, যাত্রাপথে কোথাও বাধা দেওয়া হলে প্রতিবাদীরা সেখানেই শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করে নিজেদের দাবি তুলে ধরুন। SIR প্রত্যাহার এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিকে সামনে রেখেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, এখন পিছিয়ে আসার কোনও প্রশ্ন নেই। শনিবারের কর্মসূচিতে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন, সমাজকর্মী এবং কৃষক সংগঠনগুলির অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেও আন্দোলনের পক্ষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাঁর বক্তব্য, দেশকে বাঁচাতে প্রতিবাদ চলবেই।
