নিউজপোল ব্যুরো: আজ দুর্গাপুজো মানেই পাড়ায় পাড়ায় আলোর রোশনাই, থিমের মণ্ডপ আর মানুষের ঢল। কিন্তু এই উৎসবের শুরুর দিকে দুর্গাপুজো মূলত সীমাবদ্ধ ছিল জমিদারবাড়ি ও বিত্তশালী পরিবারের অন্দরমহলে। সেই গণ্ডি পেরিয়ে কীভাবে দুর্গোৎসব সাধারণ মানুষের উৎসবে পরিণত হল, তার পিছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস।
প্রচলিত তথ্য ও ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, বাংলায় বারোয়ারি পুজোর সূচনা হয়েছিল হুগলির গুপ্তিপাড়ায়। আনুমানিক ১৭৯০ সালে আর্থিক সমস্যার কারণে এক গৃহস্থের বাড়ির দুর্গাপুজো বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। সেই পরিস্থিতিতে এলাকার ১২ জন যুবক চাঁদা তুলে পুজোর আয়োজন করেন। বারো জন বন্ধুর সম্মিলিত উদ্যোগ থেকেই ‘বারোয়ারি’ শব্দটির প্রচলন বলে মনে করা হয়।
তবে কলকাতায় এই ধারার বিস্তার ঘটে আরও পরে। ১৯১০ সালে দক্ষিণ কলকাতার বলরাম বসু ঘাট রোড এলাকায় ‘ভবানীপুর সনাতন ধর্মোৎসাহিনী সভা’-র উদ্যোগে সম্মিলিত দুর্গাপুজোর সূচনা হয়। এটিকেই কলকাতার প্রথম বারোয়ারি দুর্গাপুজো হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এরপর ১৯১৩ সালে উত্তর কলকাতার শিকদারবাগানেও একটি বারোয়ারি পুজো শুরু হয়।
সময়ের সঙ্গে বদলেছে পুজোর ধরন, বেড়েছে মানুষের অংশগ্রহণ। কয়েকজনের উদ্যোগে শুরু হওয়া বারোয়ারি পুজো ধীরে ধীরে সর্বজনীন রূপ নেয়। জমিদারবাড়ির একান্ত আয়োজন থেকে দুর্গোৎসব হয়ে ওঠে সবার। আজ সেই ঐতিহ্যই বাঙালির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের অন্যতম পরিচয়।
