নিউজপোল ব্যুরো: বাংলার দুর্গাপুজো মানেই পরিচিত দশভুজা, সিংহ ও মহিষাসুরের লড়াই। কিন্তু পুরুলিয়ার দেউলঘাটায় দেবী দুর্গার রূপ একেবারেই আলাদা। প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষের মাঝে আজও পূজিত হন কৃষ্ণবর্ণা মহিষাসুরমর্দিনী, যিনি স্থানীয়দের কাছে ‘কালো দুর্গা’ নামে পরিচিত। ইতিহাস, পুরাণ ও লোকবিশ্বাসের মেলবন্ধনে এই দেবীমূর্তি আজও আকর্ষণের কেন্দ্র।
পুরুলিয়ার আড়শা ব্লকের কংসাবতী নদীর তীরে অবস্থিত দেউলঘাটা একসময় মন্দির স্থাপত্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। ঐতিহাসিকদের মতে, আনুমানিক নবম-দশম শতাব্দীতে এই অঞ্চলে একাধিক মন্দির গড়ে উঠেছিল। সময়ের সঙ্গে অধিকাংশ মন্দির ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলেও তাদের স্থাপত্যের নিদর্শন আজও অতীতের সাক্ষ্য বহন করছে।
দেউলঘাটার কালো দুর্গার বিশেষত্ব তাঁর মূর্তির গঠনে। প্রচলিত দুর্গাপ্রতিমার মতো এখানে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ নেই। দেবীর দু’পাশে রয়েছেন অষ্টমাতৃকা। আরও বিস্ময়কর বিষয়, মূর্তিতে দেবীর ডান পা রয়েছে মহিষের উপর এবং বাঁ পা সিংহের উপর, যা পরিচিত দুর্গামূর্তির বিন্যাসের বিপরীত।
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, একসময় গাছের নীচে খোলা আকাশের তলায় পূজিত হতেন দেবী। মহালয়া থেকেই শুরু হয় চণ্ডীপাঠ। তবে নদীভাঙন ও দীর্ঘদিনের অবহেলায় প্রাচীন স্থাপত্য আজ বিপন্ন। ইতিহাসের এই অমূল্য নিদর্শন সংরক্ষণ করা এখন অত্যন্ত জরুরি।
