নিউজপোল ব্যুরো: পাহাড়ের সবুজে ঘেরা জনপদ, পাখির কলতান আর খাদের ধারের ক্যাফেতে চায়ের আড্ডা। এই মনোরম পরিবেশের মধ্যেই ১০৬ বছর ধরে দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য বয়ে নিয়ে চলেছে দার্জিলিংয়ের তিনধারিয়া। বাঙালি রেলকর্মীদের হাত ধরে শুরু হওয়া এই পুজো আজও স্থানীয় বাসিন্দাদের আবেগ ও সম্প্রীতির প্রতীক।
শিলিগুড়ি থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে তিনধারিয়া রেলওয়ে ওয়ার্কশপের কাছেই এই পুজোর আয়োজন। ১৯২০ সালে রেলের জমিতে টিনের মন্দির তৈরি করে দুর্গাপুজোর সূচনা করেন কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার বাঙালি কর্মচারীরা। পরবর্তী সময়ে তাঁরা পাহাড় ছেড়ে চলে গেলেও বন্ধ হয়নি পুজো। বর্তমানে দিব্যজ্যোতি সংঘ শঙ্কা নিবাস পুজো কমিটির উদ্যোগে ন’দিন ধরে চলে দেবীর আরাধনা।
তবে এই পুজোর আয়োজন মোটেই সহজ নয়। বড় বাজেটের পুজোর মতো বিপুল চাঁদা ওঠে না। দূর থেকে ট্রাকে করে প্রতিমা আনতে হয়। বিসর্জনের জন্য যেতে হয় প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের দুধিয়ায়। তবুও নিষ্ঠা ও ভক্তিতে কোনও খামতি নেই।
পুজো কমিটির সহকারী সম্পাদক বিকাশ দাসের কথায়, দেবীর আশীর্বাদেই শতবর্ষ পেরিয়ে আজও টিকে রয়েছে এই পুজো। সপ্তমী থেকে দর্শনার্থীদের ভিড়ে জমে ওঠে পাহাড়ের উৎসব। স্থানীয়দের কাছে এটি শুধুই ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বয়ে চলা ঐতিহ্যের উদ্যাপন।
