Durgapuja 2026:একচালার প্রতিমা নেই, নেই অষ্টধাতুর মূর্তিও! শোলার পটচিত্রেই দুর্গাপুজো ঘাটালের জমিদার বাড়িতে

অন্য রকম পূজা

নিউজপোল ব্যুরো:   দুর্গাপুজো মানেই কোথাও মৃন্ময়ী প্রতিমা, কোথাও আবার ধাতুর মূর্তিতে দেবীর আরাধনা। কিন্তু ঘাটালের ইঁদপালার রায়বাড়িতে ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে একচালার প্রতিমা কিংবা অষ্টধাতুর মূর্তি নয়, শোলার উপরে আঁকা পটচিত্রেই পুজো পান দেবী দুর্গা। প্রায় ৩৬০ বছর ধরে চলে আসা এই ব্যতিক্রমী পরম্পরা আজও ধরে রেখেছেন পরিবারের সদস্যরা।

সময়ের সঙ্গে পুজোর জৌলুস কিছুটা কমেছে। একসময় জমিদারবাড়িতে নহবতের আয়োজন থাকলেও এখন আর সেই রীতি নেই। তবে ঐতিহ্যের টান আজও অমলিন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা পরিবারের সদস্যরা পুজোর সময় ফিরে আসেন বাড়িতে। পাশাপাশি দেবীর এই অনন্য রূপ দেখতে ভিড় জমান আশপাশের গ্রামের মানুষও।

পরিবারের সদস্য দীপক কান্তি রায়ের কথায়, পূর্বপুরুষদের চালু করা রীতিনীতি মেনেই আজও পুজোর আয়োজন হয়। আর কাজরি রায় জানান, পটচিত্রে দেবীর আরাধনা দেখতে মানুষের কৌতূহল বরাবরই রয়েছে।

রায় পরিবারের দুর্গাপুজোর ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে তাঁদের আদি বাসস্থান হুগলির নকুণ্ডা গ্রামের সঙ্গে। পরে ব্যবসার প্রয়োজনে তিলকরাম রায় ঘাটালের ইঁদপালায় এসে বসতি স্থাপন করেন। সেখানেই শুরু হয় পরিবারের দুর্গোৎসব। পরিবারের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, আদি বাড়িতে দেবীর অষ্টধাতুর মূর্তি থাকায় কুলগুরুর পরামর্শে ইঁদপালার বাড়িতে শোলার পটচিত্রে দেবী দুর্গার পুজো শুরু হয়। সেই ব্যতিক্রমী প্রথাই কালক্রমে রায় পরিবারের নিজস্ব ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। প্রায় ১৩ প্রজন্ম ধরে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আজও একই রীতিতে দেবীর আরাধনা করে চলেছেন পরিবারের সদস্যরা।

পুজোর টানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবারের সদস্যরা ফিরে আসেন ইঁদপালায়। শোলার পটচিত্রে দেবী দুর্গার আরাধনা দেখতে ভিড় জমান আশপাশের গ্রামের মানুষও। প্রায় ৩৬০ বছরের এই প্রাচীন পুজো আজও বংশপরম্পরায় বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পারিবারিক ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন হয়ে টিকে রয়েছে