Durga Puja 2026: কলাবউ কি সত্যিই গণেশের স্ত্রী? নবপত্রিকা পুজোর প্রাচীন রীতিতে কীভাবে জুড়ল প্রকৃতি ও শস্যের আরাধনা?

কলকাতা

নিউজপোল ব্যুরো:দুর্গাপুজোর মহাসপ্তমীতে ঢাকের বাদ্যি আর শঙ্খধ্বনির মধ্যে স্নান করিয়ে নতুন শাড়ি পরানো হয় কলাবউকে। তারপর তাঁকে প্রতিষ্ঠা করা হয় গণেশের পাশে।প্রচলিত লোকবিশ্বাসে কলাবউকে গণেশের স্ত্রী বলে উল্লেখ করা হয়। তবে শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যায় কলাবউ আসলে নবপত্রিকার প্রতীক।লালপাড় সাদা শাড়ি, সিঁদুর আর ঢাকের বাদ্যি।

নবপত্রিকা পুজোর রীতিতে রয়েছে নয়টি উদ্ভিদের সমাহার। কলা, কচু, হলুদ, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, অশোক, মানকচু ও ধানকে একত্র করে তৈরি করা হয় নবপত্রিকা। প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাসে, এই উদ্ভিদগুলি দেবীর নয়টি রূপের প্রতীক। কলাগাছের সঙ্গে অন্য আটটি উদ্ভিদ বেঁধে শাড়ি পরিয়ে বধূরূপ দেওয়া হয়। পরিচিত নাম কলাবউ। মহাসপ্তমীর সকালে নবপত্রিকাকে নদী বা জলাশয়ে স্নান করিয়ে পুজোমণ্ডপে প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর শুরু হয় বিশেষ পুজোর আচার। এই প্রথা শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসেই সীমাবদ্ধ নয়, এর সাংস্কৃতিক তাৎপর্যও রয়েছে।

মহাসপ্তমীর সকালে কলাবউ স্নান ও নবপত্রিকা পুজো তাই দুর্গোৎসবের এক পরিচিত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ রীতি। গণেশের পাশে কলাবউয়ের উপস্থিতি নিয়ে লোকমুখে নানা ধারণা প্রচলিত থাকলেও, নবপত্রিকার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেবীর আরাধনা এবং প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধার এক বিশেষ ঐতিহ্য। নয়টি উদ্ভিদকে পুজোর মাধ্যমে সম্মান জানানোর এই প্রথা বাঙালির ধর্মীয় বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক পরম্পরার সঙ্গে আজও নিবিড়ভাবে জড়িয়ে রয়েছে।