সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার, উপচে পড়া ভিড়! চোরবাগান বিপর্যয়ে কাঠগড়ায় পুজো কর্তৃপক্ষ

রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: শনিবারের উৎসবের রাতে হঠাৎ নেমে আসে বিপর্যয়। কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে মর্মান্তিক ঘটনা পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান ১৯ জন। আহত হন আরও অনেকে। এহেন পরিস্থিতি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্নের মুখে পুজো কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার নেপথ্যে কি শুধুই আচমকা ভিড়ের চাপ, নাকি আগে থেকে নজরে আসা সমস্যাগুলির গুরুত্ব না দেওয়া?

অনেকের অভিযোগ, বহু কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মাধ্যমেও দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় চোরবাগানের পুজো নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালানো হয়েছিল। সেই প্রচারে দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা থাকলে, তাঁদের সামলানোর জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। পুজোর প্রচারের পাশাপাশি নিরাপত্তার পরিকল্পনাও কি সমান গুরুত্ব পেয়েছিল?

বিতর্ক আরও বেড়েছে তৃতীয়ার দিন এক তরুনীর সোশ্যাল মিডিয়ার পোষ্টকে কেন্দ্র করে। ওই দিনই চোরবাগানের মণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড় এবং পদপিষ্ট হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। সেই সতর্কবার্তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছিল কি না, এলেও কেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়নি, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠছে।

অন্যদিকে, মণ্ডপের প্রবেশ ও বেরনোর পথের বিন্যাস নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, বেরনোর রাস্তা ছিল সংকীর্ণ ও ফানেলের মতো। ভিতরে সিঁড়ি, ঢালু পথ এবং বেরনোর জায়গায় লোহার ব্যারিয়ার থাকায় ভিড়ের চাপে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত প্রয়োজন।

মৃত আকৃতি কুমারী রাউথের দিদি পল্লবী রায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মৃত তানিয়া বিশ্বাসের দাদার অভিযোগও, পুজোর সময় প্রশাসনের নজরদারি যথেষ্ট ছিল না। সুতরাং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। স্বজনহারাদের এই বক্তব্যের পর প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

তবে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচার বা মণ্ডপের ব্যবস্থাপনাই দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষ কারণ কি না, তা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আগাম সতর্কতা ও নিরাপত্তার খামতি থাকলে সেগুলি কেন সময়মতো চিহ্নিত করা গেল না? চোরবাগান বিপর্যয়ের দায় নির্ধারণে প্রশাসন ও পুজো কর্তৃপক্ষের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহলে।