মায়ের গলায় ফাটল, বাস্তু নিয়ে ভাবনা—চোরবাগানের ঘটনা যেন বিশ্বাস ও বাস্তবের প্রাচীন প্রথার এক অচেনা গল্প

কলকাতা রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো:চোরবাগানের দুর্গাপুজোকে ঘিরে মর্মান্তিক ঘটনার পর বাস্তু ও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিমার মুখের দিক পরিবর্তন থেকে শুরু করে পুজোর প্রাচীন রীতিনীতি—সবকিছু নিয়েই উঠছে নানা প্রশ্ন। তবে বাস্তুদোষের সঙ্গে দুর্ঘটনার কোনও প্রমাণিত সম্পর্ক নেই।

হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্যে বাস্তু ও দিকনির্দেশের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। অনেকের বিশ্বাস, পুজোর স্থান নির্বাচন, প্রতিমার অবস্থান এবং প্রচলিত রীতি মেনে চলা আধ্যাত্মিক পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। সেই বিশ্বাস থেকেই চোরবাগানের পুজোয় প্রতিমার মুখের দিক পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে কারও কারও মনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

শাস্ত্রীয় মতে অনেকে একে ‘অশুভ’ বা ‘বাস্তু ত্রুটি’ বলে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করলেও এর সাথে দুর্ঘটনার সরাসরি কোনো যোগসূত্র নেই। ৯১তম বর্ষে উত্তরের চোরবাগান সর্বজনীন প্রথমে অন্য একটি থিম ভাবলেও পরবর্তীতে বিখ্যাত শিল্পী সুশান্ত শিবানী পালের ভাবনায় তাদের চূড়ান্ত থিম নির্ধারিত হয় ‘অরব’ (Beyond Sound)। এই থিমের মূল উদ্দেশ্য ছিল কোলাহল ও শব্দের ঊর্ধ্বে গিয়ে এক শান্ত, নিস্তব্ধ আধ্যাত্মিক পরিবেশ বা নৈঃশব্দ্যের আরাধনাকে তুলে ধরা।

অন্যদিকে, প্রতিমার গলায় দৃশ্যমান ফাটল ঘিরেও ভক্তদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দেবী দুর্গা শক্তি, সাহস ও মঙ্গলের প্রতীক। তাই তাঁর প্রতিমায় এমন কোনও অস্বাভাবিকতা নজরে এলে ধর্মীয় অনুভূতি থেকে তার তাৎপর্য খোঁজার প্রবণতা স্বাভাবিক। তবে প্রতিমার ফাটল কারিগরি বা কাঠামোগত কারণেও হতে পারে। এর সঙ্গে পরবর্তী কোনও দুর্ঘটনার সরাসরি যোগসূত্র নেই।

চোরবাগানের ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার পাশাপাশি উৎসবের নিরাপত্তাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত বেরোনোর পথ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধারকাজের জন্য সঠিক পরিকাঠামোর প্রয়োজন ছিল। মায়ের আরাধনা হোক বিশ্বাস, শান্তি ও মঙ্গলের প্রতীক। পাশাপাশি, প্রতিটি মানুষের জীবন রক্ষার দায়িত্বও হোক আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার।