নিউজপোল ব্যুরো: পেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিল ১১ বছরের পবন যাদব। কিন্তু চিকিৎসা করাতে এসে তার মৃত্যু ঘিরে এখন একাধিক প্রশ্ন উঠছে। রবিবার লক্ষ্মীপুজোর দিন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। মৃত শিশুর পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে তিনটি ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরই পবনের মৃত্যু হয়। তাঁদের দাবি, ভুল ইঞ্জেকশন দেওয়ার কারণেই এই মর্মান্তিক পরিণতি। তবে চিকিৎসায় কোনও ভুল হয়েছিল কি না, তা এখনও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পবন যাদবের বাড়ি হাওড়ার আন্দুলে। সন্তানের মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যরা ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে চান। চিকিৎসায় গাফিলতি হয়ে থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এই অভিযোগ সামনে আসতেই হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা বাড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। উত্তেজিত জনতার সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। পুলিশকে মারধরের অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ঘটনায় তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ বলে জানা গিয়েছে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর হাসপাতালে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। শিশুমৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। শিশু শল্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের নেতৃত্বে এই কমিটি কাজ করবে। কমিটিতে হৃদরোগ, মেডিসিন এবং শিশু বিভাগের একজন করে অধ্যাপক চিকিৎসক রয়েছেন।
ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমিটিকে। শিশুটিকে কী কারণে ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল, চিকিৎসার সময় কী পদক্ষেপ করা হয়েছিল এবং মৃত্যুর সঙ্গে চিকিৎসার কোনও যোগ রয়েছে কি না—সেই বিষয়গুলি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। দোষীদের শাস্তি ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব মৃত শিশুর পরিবার।
