নিউজপোল ব্যুরো: মহাসপ্তমীর রাতে উৎসবের চেনা ছন্দ বদলে গিয়েছিল শোকের আবহে। চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গামন্ডপে ১৯ জনের প্রাণহানী ঘটনায় শুরু হয়েছে তদন্ত। এত জনের মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতি কীভাবে তৈরি হল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী সংস্থা। দর্শনার্থীদের ভিড়, আচমকা বৃষ্টি বাইরে বেরোনোর সংকীর্ণ রাস্তা নাকি পুজো কতৃপক্ষের গাফিলতি তার খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উঠে এসেছে প্রচণ্ড ভিড় ও মানুষের পায়ের চাপে ৭ জনের পাঁজরের হাড় ভেঙে সোজা ফুসফুসে গিয়ে ঢোকে, যার ফলে রক্তক্ষরণ ও অসহ্য শ্বাসকষ্টে তাদের মৃত্যু হয়। বদ্ধ জায়গায় অত্যধিক ভিড়ের কারণে অক্সিজেনের অভাব তৈরি হয়েছিল কি না। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণেও এই সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে তদন্তে। এছাড়াও পুলিশ ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৭টা ১৫ থেকে ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সময় সিসিটিভি ফুটেজ বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই সময় মণ্ডপের ভিতরে এবং প্রবেশ ও বেরোনোর পথে ঠিক কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা বোঝার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
ভিড় সামলাতে পুলিশকর্মীরা বারবার দর্শনার্থীদের বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করছিলো পুলিশ এমনটাই মন্তব্য প্রতক্ষ্যদর্শীদের। মাইকে সর্তক করার পরও বৃষ্টির কারণে এক্সিট গেটের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা অনেকেই বাইরে যেতে চাইছিলেন না। একই সময়ে ভিতরে ঢোকার জন্যও ভিড় বাড়তে থাকায় ভিড় নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে যায়।
তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে, বদ্ধ জায়গায় অত্যধিক ভিড়ের কারণে অক্সিজেনের অভাব তৈরি হয়েছিল কি না। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণেও এই সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি। ভিড় নিয়ন্ত্রণে নিযুক্ত নিরাপত্তারক্ষীদের প্রশিক্ষণ এবং তাঁদের ভূমিকা নিয়েও তথ্য সংগ্রহ করছেন গোয়েন্দারা। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রকৃত দুর্ঘটনার কারণ বোঝার চেষ্টা চলছে।
