নিউজপোল ব্যুরো: একদিকে শিক্ষক নিয়োগে নতুন নিয়ম, অন্যদিকে চোরবাগানের দুর্ঘটনায় স্বজন হারানো পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা—রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠক ঘিরে উঠে এল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, আগামী দিনে যাঁরা নতুন করে শিক্ষক-শিক্ষিকা হিসেবে নিযুক্ত হবেন, তাঁরা প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন না। একই সঙ্গে চোরবাগানের ঘটনায় মৃতদের পরিবারের জন্য স্থায়ী চাকরির ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক-শিক্ষিকারা পঞ্চায়েত, পুরসভা, বিধানসভা কিংবা লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। অর্থাৎ, শিক্ষকতার দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি নির্বাচনী রাজনীতিতে সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ তাঁদের ক্ষেত্রে থাকবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে যাঁরা ইতিমধ্যেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, তাঁদের বর্তমান অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শিক্ষাক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা এবং শিক্ষক পেশার মর্যাদা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। তাঁর বক্তব্যে আগের বাম সরকার এবং তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকাল নিয়েও রাজনৈতিক সমালোচনা উঠে আসে। শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে বিরোধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেও, সেগুলি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই বিবেচ্য।
নতুন নিয়মটি কীভাবে কার্যকর হবে, কোন ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ‘প্রত্যক্ষ রাজনীতি’ বলা হবে এবং এর বাইরে অন্য কোনও বিধিনিষেধ থাকবে কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত সরকারি নির্দেশিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিশেষ করে নতুন নিয়োগপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব কতটা পড়বে, তা স্পষ্ট হবে নিয়মাবলি প্রকাশের পর।
মন্ত্রিসভার এই ঘোষণার পর শিক্ষক নিয়োগ ও রাজনীতিতে অংশগ্রহণের অধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এবার নজর সরকারি বিজ্ঞপ্তি এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ সংক্রান্ত নির্দেশিকার দিকে।
