নিউজপোল ব্যুরো: কেউ মায়ের কাছে চাকরি চান, কেউ আবার প্রিয়জনের সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করেন। ভক্তদের এমন নানা বিশ্বাস আর মানতকে ঘিরেই প্রায় ৩০০ বছর ধরে জনপ্রিয় বাঁকুড়ার সোনামুখীর ‘মাই তো কালী’। কালীপুজোর দিন এই মন্দিরে দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ পুজো দিতে আসেন।
সোনামুখী পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের রানিবাঁধে রয়েছে এই মন্দির। মাই তো কালীর পুজো ঘিরে একটি পুরনো গল্প প্রচলিত রয়েছে। কথিত আছে, ১৭৪২ সালে মারাঠা সেনাপতি ভাস্কর পণ্ডিত বিষ্ণুপুর আক্রমণে ব্যর্থ হয়ে সোনামুখীতে আসেন। সেখানে একসময় তিনি চোখে দেখতে পাচ্ছিলেন না। পরে এক পুরোহিত ঘটের জল ছিটিয়ে দিলে তাঁর দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসে বলে লোকমুখে শোনা যায়। সেই ঘটনার পর থেকেই দেবীর নাম হয় ‘মাই তো কালী’।
এই মন্দিরে শুধু স্থানীয় মানুষই নন, কলকাতা, দুর্গাপুর, দিল্লি, বেঙ্গালুরু এমনকী বিদেশ থেকেও ভক্তরা আসেন। অনেকেই দেবীর ঘটের জল সংগ্রহ করে নিয়ে যান। পুজো কমিটির দাবি, প্রতি বছর প্রায় চার হাজার মানুষের সমাগম হয়।
কালীপুজোর দিন বিকেলে শোভাযাত্রার মাধ্যমে ঘট বিসর্জন দেওয়া হয়। সেই সময় ঘটের জল নিতে ভিড় করেন ভক্তরা। দীর্ঘদিনের লোককথা আর মানুষের বিশ্বাসের টানেই আজও সোনামুখীর মাই তো কালী বিশেষ পরিচিতি ধরে রেখেছে।
