নিউজ পোল ব্যুরোঃ হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন ট্যাংরাকাণ্ডে (Tangra Triple Murder Case) অন্যতম অভিযুক্ত প্রসূন দে(Prosun Dey)। যিনি ‘দে পরিবারের’ (dey family) `ছোট ছেলে। গাড়ি দুর্ঘটনার পর তিনি এনআরএস হাসপাতালে ভরতি ছিলেন। পুলিশের(police) কাছে দেওয়া বয়ানে প্রসূন জানিয়েছিলেন তিনি তাঁর স্ত্রী ও বৌদির হাতের শিরা কেটেছিলেন। ছাড়া পাওয়ার পর এবার কি গ্রেফতার করা হবে ট্যাংরার ‘দে পরিবারের’ ছোট ছেলেকে তাই নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।
১৯ ফেব্রুয়ারি ট্যাংরার অটল শূর লেনে দে পরিবারের তিন মহিলা সদস্যের দেহ উদ্ধার হয়। যে ঘটনা গোটা রাজ্যে ঝড় তুলেছিল। যত তদন্ত করা হয়েছে ততই সামনে এসেছে একের পর এক রহস্য। প্রথমে কেউ মুখ না খুললেও পরে দুই ভাই স্বীকার করে খুনের কথা। দুই ভাই ও বাড়ির নাবালক ছেলে গাড়ি দুর্ঘটনার পর ভর্তি ছিলেন এনআরএস হাসপাতালে। তাঁদের মধ্যেই ‘দে পরিবারের’ ছোটকে ছাড়া হয়েছে। এখনও হাসপাতালেই রয়েছেন প্রণয় দে ও ভাইপো প্রতীপ। সূত্রে জানা গিয়েছে পুলিশ দুই ভাইকে একসঙ্গে বসিয়ে জেরা করতে চায়। এটাও জানা গিয়েছে, পুলিশ খুনের ঘটনায় সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করিয়ে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করতে পারে। এমনকি দুই ভাইকে সঙ্গে নিয়ে সেদিন ঠিক কি ঘটেছিল, কিভাবে তিন মহিলাকে খুন করা হয়েছে সেই ঘটনার পুননির্মাণও করতে চায়। এমনটাই সূত্রের খবর।
আরও পড়ুনঃ Tangra Incident: ‘মরার ভান করে…’ ট্যাংরা কাণ্ডের নাবালকের বয়ান ঘিরে বাড়ছে উত্তাপ
উল্লেখ্য, ট্যাংরাকাণ্ডে (Tangra Triple Murder Case) ইতিমধ্যেই হাসপাতালে প্রসূন, প্রণয়, প্রতীপের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। তাঁদের বয়ানে রয়েছে চমকে দেওয়া তথ্য। প্রণয় জানিয়েছেন তিনি যেহেতু নরম মনের মানুষ তাই তিনি তাঁর ভাই প্রসূনকে বাড়ির সদস্যদের হত্যার(Tangra Triple Murder Case) নির্দেশ দিয়েছিলেন। এমনকি বৃহস্পতিবার রাজ্য শিশু কমিশনের দুই সদস্যের সামনে চাঞ্চল্যকর বয়ান দিয়েছে প্রতীপ। সে জানিয়েছে, “যোগা এবং জিম করার ফলে পায়েসে মেশানো ঘুমের ওষুধ খেয়ে কিছুই হয়নি আমার। মরার ভান করে শ্বাস আটকে মৃতের অভিনয় করেছি। এরপর কাকা বালিশ চাপা দিয়ে আমাকে শ্বাসরোধ করে খুন করার চেষ্টা করে। আমি বেশ কিছুক্ষণ শ্বাস আটকে রেখেছিলাম। এরপর কাকা এবং বাবা ছাদে আত্মহত্যা করতে চলে যায়। আমি দোতলায় উঠে দেখি মা কাকিমা এবং বোন মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। মা কাকিমা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তাদের খুন করা হয়।” নাবালক পরিবারের দেনার প্রসঙ্গও। তাঁর কথায়, “বাবা ঘটনার দুইদিন আগে বলেছিল, এবার পাওনাদাররা ধাওয়া করবে। মৃত্যু ছাড়া আর কোনো উপায় নেই বলেছিল বাবা-কাকা। আমাকে সেদিন আলোচনার সময় ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়। আমি সেদিন ঘরে থাকলে অন্য কোনো রোজগারের উপায় নিয়ে পরামর্শ দিতে পারতাম।”
নিউজ পোল ফেসবুক পেজের লিংক: https://www.facebook.com/share/1EA79Afcw5/
