নিউজ পোল ব্যুরো: বর্তমান যুগে শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ভূমিকা দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT), এবং মাল্টি-অ্যাক্সেস এজ কম্পিউটিং (Multi-Access Edge Computing – MEC) শিক্ষাকে আরও সহজলভ্য করে তুলতে নাগাল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের (Nagaland University) গবেষকরা একটি নতুন এবং উদ্ভাবনী শিক্ষণ ব্যবস্থা (Flexible Learning System – FLS) তৈরি করেছেন, যা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ভাবে শেখার অভিজ্ঞতা (customized learning experience) প্রদান করবে। পাশাপাশি এটি তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে।
আরও পড়ুন:- SSC Case: শিক্ষক নেই, শিক্ষা নেই! ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে
নাগাল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের (Nagaland University) স্কুল অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (School of Engineering and Technology) পরিচালিত গবেষণা অনুযায়ী, FLS ব্যবস্থাটি রিয়েল-টাইম অভিযোজিত শিক্ষা (real-time adaptive learning) প্রদান করে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব গতিতে (self-paced learning) অগ্রসর হতে পারেন। গবেষণার ফলাফল অনুসারে, এই অত্যাধুনিক পদ্ধতিটি টাস্ক প্রসেসিং সময় (task processing time) ৯৪ শতাংশ কমিয়ে দেয় এবং প্রতিক্রিয়ার সময় (response time) উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করে, যা শিক্ষার্থীদের শেখার দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। FLS সিস্টেমটি শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে, তাদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে এবং সে অনুযায়ী সহজ (basic), মাঝারি (intermediate), বা উন্নত (advanced) পর্যায়ের পাঠ্যসামগ্রী প্রদান করে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের দুর্বল ক্ষেত্রগুলি উন্নত করার সুযোগ পান এবং দ্রুত শিখতে সক্ষম হন।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
এই গবেষণাটি কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের (Computer Science and Engineering Department) গবেষক রমেশ সিং, চেনলেপ ইয়াখা কোনিয়াক এবং আকাংজুংশি লংকুমারের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে। এই দলের গবেষকরা জানিয়েছে যে FLS, প্রচলিত ইন্টেলিজেন্ট টিউটরিং সিস্টেমস (Intelligent Tutoring Systems – ITS)-এর প্রধান সীমাবদ্ধতা, অর্থাৎ রিয়েল-টাইম অভিযোজিত শিক্ষার অভাবকে দূর করে। ITS টুলগুলোর তুলনায়, FLS মাল্টি-অ্যাক্সেস এজ কম্পিউটিং ব্যবহার করে ব্যান্ডউইথ অপটিমাইজ করে এবং টাস্ক প্রসেসিং আরও কার্যকর করে। এর ফলে শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষকদের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় থাকে।শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে নাগাল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্ভাবন এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থা আরও পরিপূর্ণ হলে, এটি উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে।
