নিউজ পোল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে (Supreme Court Verdict) রাজ্যে ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বাতিল (SSC) হয়েছে। আদালতের এই নির্দেশ অগণিত মানুষের জীবনে এক গভীর সংকটের সৃষ্টি করেছে। চাকরি হারানোর ধাক্কা অনেকেই সহ্য করতে পারছেন না। মানসিক চাপে ভুগছেন অসংখ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা। এই সংকটের মধ্যেই বৃহস্পতিবার মর্মান্তিক এক ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে (Canning)। রুম্পা সিং (Rumpa Singh) নামে এক ইতিহাসের শিক্ষিকা (History Teacher) আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তিনি ক্যানিংয়ের রায়বাঘিনি হাই স্কুলে (Raibaghini High School) শিক্ষকতা করতেন। ২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেলের (2016 SSC Panel) মাধ্যমে তিনি চাকরি পান।
আরও পড়ুন:- 2016 SSC Panel: রাজ্যে চাকরি হারানোদের তালিকা
রুম্পা সিং দীর্ঘদিন ধরেই ব্যক্তিগত জীবনে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিলেন। প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর একাই জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এই কঠিন পরিস্থিতিতে চাকরি তার জন্য একমাত্র ভরসা ছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর সেই চাকরিও চলে যায়। এতে শুধু আর্থিক নয়, মানসিকভাবেও তিনি ভীষণ ভেঙে পড়েন। চাকরি হারানোর পর (SSC) ঋণের বোঝা আরও বাড়তে থাকে। অভিযোগ, পাওনাদারেরা তাকে ক্রমাগত চাপ দিতে থাকেন। রায় ঘোষণার পর থেকেই তার বাড়িতে একের পর এক লোক আসতে থাকে। তারা টাকা ফেরতের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। এমনকি হেনস্তারও শিকার হন তিনি। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, রুম্পা মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন। একদিকে চাকরি হারানোর যন্ত্রণা, অন্যদিকে পাওনাদারদের চাপ—সব মিলিয়ে এক চরম হতাশার মধ্যে পড়ে যান রুম্পা। মানসিক অবসাদের কারণে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। নিজের ঘরে গিয়ে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তার সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়। সেই সুইসাইড নোটে তিনি বাবা-মা এবং প্রেমিকের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। রুমার হবু স্বামী জানায় রুমা তার কিছু ব্যক্তিগত কারণের জন্য ব্যাঙ্ক থেকে লোন নিয়েছিল। লোন নেওয়া ছাড়াও স্থানীয় কিছু লোকজনদের থেকে সে টাকা ধারও করেছিল।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
বাড়ির মালিক ঠিক সময়মতো বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত অন্যান্য প্রতিবেশীদের খবর দেন। সবাই মিলে দরজা ভেঙে রুম্পাকে উদ্ধার করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে (Canning Hospital) ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে সূত্রের খবর। এই ঘটনার খবর পেয়ে ক্যানিং থানার পুলিশ রুমার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। রুম্পার ঘটনা ব্যতিক্রম নয়। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর থেকেই ২৬ হাজার চাকরি হারানো শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং তাদের পরিবারের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সংসার চালানোর একমাত্র মাধ্যম ছিল এই চাকরি। হঠাৎ চাকরি চলে যাওয়ায় তারা রীতিমতো আর্থিক সংকটে (SSC) পড়ে গিয়েছেন। অভিযোগ, রাজ্য সরকার এখনো পর্যন্ত এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য কোনো সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি। এই শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেই নিয়ে একটা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
