নিউজ পোল ব্যুরো: অনেকটাই কমেছে ভারত-চিন সম্পর্কের ( India-China Ties) বরফ। ২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ভারত-চিন সম্পর্কে অবনতি হয়। একাধিক সামরিক পর্যায়ে বৈঠকে সীমান্তে অনেকটাই কেটেছে অচলঅবস্থা। দুই দেশই নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক মধুর করতে আগ্রহী হয়েছে। এই আবহেই ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল (Ajit Doval) সোমবার বেইজিংয়ে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের (Wang Yi) সঙ্গে দেখা করেছেন। হয়েছে বৈঠকও। তাঁরা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য সন্ত্রাসবাদ বিরোধী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন বলেই সূত্রের খবর। অজিত ডোভাল ও ওয়াং ইয়ের বৈঠকের কথা এক বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে। আর এই বিবৃতিটি চিনের প্রতি একটি পরোক্ষ বার্তা বলে মনে করছে ওয়াকিবফল মহল। চিনের সনে ভারতের এই সখ্যতাকে পাকিস্তানের মাটিতে সক্রিয় সন্ত্রাসী জঙ্গিগোষ্ঠী গুলির উপর চাপ দিতে নয়াদিল্লির নয়া কৌশল বলেও মনে করা হচ্ছে।
ডোভাল বর্তমানে SCO সদস্য দেশগুলির নেতাদের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে একটি সম্মেলনে যোগ দিতে চিনে রয়েছেন। ২০২০ সালের মে মাসে পূর্ব লাদাখে সামরিক অচলাবস্থা শুরু হওয়ার পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে স্বাভাবিক জায়গায় ফিরিয়ে আনার জন্য নয়াদিল্লি এবং বেইজিং উভয়ের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই সফরকে দেখা হচ্ছে। বিদেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে উভয় পক্ষই ভারত-চিন সম্পর্কের সাম্প্রতিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছে এবং জনগণের সাথে জনগণের বৃহত্তর সম্পৃক্ততা সহ কূটনৈতিক সম্পর্কের সামগ্রিক উন্নয়নকে উৎসাহিত করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছে। বৈঠকের আপডেট দিয়ে ভারতে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত জু ফেইহং বলেছেন, “ড্রাগন এবং হাতি একসাথে নাচলেই কেবল উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক ফলাফল হতে পারে। চিন এবং ভারতের উচিত সংবেদনশীল বিষয়গুলি সঠিকভাবে পরিচালনা করা এবং সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।”
অন্যদিকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা অজিত ডোভাল বলেছেন, “ভারত বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে চিনের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করতে ইচ্ছুক এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (SEO) একটি সফল শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনে চিনের ভূমিকাকে সম্পূর্ণরূপে সমর্থন করে”। এর পরেও চিনা রাষ্ট্রদূত জু ফেইহং বলেন, “দুটি প্রধান এশীয় দেশ হিসেবে, ভারত এবং চিন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য আরও বেশি অবদান রাখতে পারে।” এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, ভারত-চিন সম্পর্কের ( India-China Ties) ক্ষেত্রে এই ডোভালের সফরকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে কারণ উভয় দেশ কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে আস্থা পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করছে। বিশেষ করে অপারেশন সিঁদুরের এক মাস পরে ডোভাল এবং ওয়াংয়ের বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে বড় প্রভাব ফেলেতে পারে বলেই অনেকে মনে করছেন। পাকিস্তানের বন্ধু হিসেবে পরিচিত চিনে ভারতের প্রভাব যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
