Amitabh Bacchan: “‘কোনও জিনিসে হাত দেবেন না!’—সত্যজিতের ঘরে ঢুকেই চমকে গেলেন বিগ বি”

পেজ 3

নিউজ পোল ব্যুরো: অমিতাভ বচ্চনের (Amitabh Bacchan) অভিনয় জীবন অসংখ্য চমকপ্রদ ঘটনার সাক্ষী। তেমনই একটি ঘটনা সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ঘিরে। যদিও কিংবদন্তি এই পরিচালকের ছবিতে কোনওদিন মূল চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাননি অমিতাভ, তবে ‘শতরঞ্জ কে খিলাড়ি’ ছবিতে তিনি ছিলেন কণ্ঠস্বর হিসেবে। তাঁর কণ্ঠে শোনা গিয়েছিল ছবির বর্ণনা। তবে অমিতাভের মতে, সত্যজিতের ছবিতে অভিনয় করতে না পারা তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম বড় আফসোস।

আরও পড়ুন: Ritwik Ghatak: একদিকে শিল্প, অন্যদিকে জীবন—ঋত্বিক ও মাধবীর টানাপোড়েন

জানা যায়, সত্যজিৎ রায় একসময় ফেলুদার হিন্দি সংস্করণ তৈরি করতে চেয়েছিলেন। সেখানে ফেলুদা চরিত্রে তিনি কল্পনা করেছিলেন বলিউডের ‘শাহেনশাহ’ অমিতাভ বচ্চনকেই (Amitabh Bacchan)। দুর্ভাগ্যবশত, নানা কারণে সেই ছবি বাস্তবের মুখ দেখেনি। কিন্তু সেই পরিকল্পনা আজও রয়ে গিয়েছে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মনে।

একবার অমিতাভ বচ্চন কলকাতায় এসেছিলেন বিশেষ উদ্দেশ্যে—সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলেন ভারতীয় সিনেমার অন্যতম শ্রেষ্ঠ পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে। তখন সত্যজিৎ রায় বয়সের ভারে কিছুটা অসুস্থ, বেশির ভাগ সময়ই বাড়িতে থাকতেন। অমিতাভ যখন তাঁর বাড়িতে পৌঁছন, দরজায় প্রথম যাঁর সঙ্গে দেখা হয়, তিনি সন্দীপ রায়—সত্যজিতের পুত্র এবং নিজেও একজন সফল পরিচালক। সন্দীপ অত্যন্ত আন্তরিকভাবে অমিতাভকে স্বাগত জানান। কিন্তু সেই আতিথেয়তার মাঝেই একটি নির্দিষ্ট ও স্পষ্ট অনুরোধ জানান তিনি, যা ছিল খানিকটা কড়া স্বরের—“বাবার ঘরের কোনও কিছুতে দয়া করে হাত দেবেন না।”

প্রথমে এই কথায় খানিকটা বিস্মিত হয়ে যান অমিতাভ। তাঁর মতো একজন অভিজাত ও সংবেদনশীল ব্যক্তি, যিনি নানা জায়গায় গিয়েছেন, নানা মানুষকে দেখেছেন—তাঁর কাছে এমন নিষেধাজ্ঞা একটু অপ্রত্যাশিতই মনে হয়েছিল। কিন্তু সন্দীপের চোখেমুখে যে সজাগ সতর্কতা আর বিনয়ী দৃঢ়তা ছিল, তা অমিতাভ উপেক্ষা করেননি। ধীরে ধীরে যখন তিনি সত্যজিতের ঘরে প্রবেশ করেন, তখনই নিজের চোখে পরিস্থিতি দেখে সমস্ত কিছুর মানে বুঝতে পারেন।

ঘরটি যেন এক সৃজনশীল জগতের খোলা মানচিত্র। চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে নানা ধরণের কাগজ, চিত্রনাট্য, বই, পুরোনো পোস্টার, কলম, ছবি—যেগুলোর কোনওটাই চোখে গোছানো মনে হয় না। কিন্তু সেই অগোছালোতার মাঝেই ছিল এক নিখুঁত সিস্টেম, এক অদ্ভুত স্বাভাবিক ছন্দ। সেই মুহূর্তে অমিতাভ অনুভব করেন, সত্যজিতের কাজের জগতটি যেন এই অবিন্যস্ত ভাবেই সাজানো—যেখানে প্রতিটি জিনিস নিজের জায়গায় থেকেও অগোছালো। আর এই সৃষ্টিশীল বিশৃঙ্খলার প্রতি কারও হস্তক্ষেপ যেন অনুচিত।

সত্যজিৎ বসে আছেন একটি পুরনো ইজি চেয়ারে। চারপাশে অগোছালো কাগজপত্র, বই, পোস্টার ছড়ানো। অমিতাভ জিজ্ঞেস করেন, এই ঘর এত বিশৃঙ্খল কেন? উত্তরে সত্যজিৎ বলেন, “এটা তোমাদের চোখে অগোছালো, কিন্তু আমার কাছে নয়। আমার যখন যা দরকার, আমি হাত বাড়ালেই সেটা পেয়ে যাই।”

সেই অভিজ্ঞতা আজও অমিতাভের মনে গেঁথে রয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, একজন সৃজনশীল মানুষের নিজের মতো করে একটি ছন্দ থাকে—যা বাইরের দৃষ্টিতে বিশৃঙ্খল হলেও আসলে তা-ই তাঁর কাজের গঠন।

এই স্মৃতি কেবল অমিতাভের নয়, বরং ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। একটি সম্ভাবনার অপূর্ণতা এবং একটি মুহূর্তের আন্তরিকতা মিলিয়ে তা আজও চিরস্মরণীয়।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক: https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT