Rajanya Halder: নেতৃত্ব, নাটক না নিঃস্বার্থতা? রাজন্যার অভিযোগ ঘিরে উত্তাল তৃণমূল অন্দরমহল

breakingnews কলকাতা রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: কসবাকাণ্ড (Kasba Incident) নিয়ে মুখ খুলেই দলের অন্দরমহলে বিতর্কের কেন্দ্রে প্রাক্তন টিএমসিপি নেত্রী রাজন্যা (Rajanya Halder)। একসময় যাকে সম্ভাবনাময় বলে তুলে ধরা হয়েছিল, আজ সেই রাজন্যার যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে কটাক্ষের সুরে সরব তৃণমূলের (TMC) একাধিক নেতা-নেত্রী। মুখ না খুললেও ইঙ্গিতে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূলের তরুণ নেত্রী জুঁই বিশ্বাস।

আরও পড়ুন: Elon Musk: বন্ধুত্ব ভেঙে সংঘাত! মাস্কের নতুন দলের জবাবে ট্রাম্পের তীব্র কটাক্ষ

জুঁই তাঁর সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “যোগ্যতা বিচারের জন্যও যোগ্যতা লাগে। যারা একে মাথায় তুলেছিলেন, তাদের যোগ্যতা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। না নেত্রী হওয়ার যোগ্যতা রয়েছে, না অভিনেত্রীর। কোভিড কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে যাদের খুঁজে পাওয়া যায় না, তারা হঠাৎই নেত্রী হয়ে ওঠেন কীভাবে?”

এই পোস্টের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা—এই মন্তব্য আসলে কাকে উদ্দেশ করে? যদিও নাম উচ্চারণ করেননি জুঁই, তবু ইঙ্গিত যে রাজন্যার (Rajanya Halder) দিকেই তা স্পষ্ট। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জুঁই বলেন, “দুঃখজনক ঘটনা। কিন্তু যদি সত্যিই কোনও মহিলার সঙ্গে অন্যায় হয়ে থাকে, তাহলে এতদিন চুপ কেন ছিলেন তিনি? যিনি নিজেকে নেত্রী বলেন, তিনি নিজেকে রক্ষা করতে না পারলে দলের বাকিদের জন্য কী করবেন?” এই একই প্রশ্ন তুলেছেন দলের অন্য নেত্রী প্রিয়দর্শিনী ঘোষও (Priyadarshini Ghosh)। তার মন্তব্য, “কেন মিডিয়ার সামনে মুখ খুললেন? কেন দল বা প্রশাসনের কাছে গেলেন না?”

দলের অভ্যন্তরে অনেকেই মনে করছেন, রাজন্যার এই অভিযোগ এবং তার সময়কাল নিয়ে প্রশ্ন তোলা খুবই প্রাসঙ্গিক। অভিযোগ সত্যি হলে কেন তখনই আইনি পদক্ষেপ নেননি তিনি? আবার অন্য অংশ বলছে, দলের ভেতরের অপারগতা এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থেকেই রাজন্যাকে কোণঠাসা করা হচ্ছে। রাজন্যা কি নিছকই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার? নাকি ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা ঘিরেই চলছে এই ‘নাটক’? এই প্রশ্নেই সরগরম এখন শাসকদলের অন্দরমহল।

রাজন্যার (Rajanya Halder) বক্তব্য, আমি জানি অনেকে প্রশ্ন করছেন, কেন এতদিন পর মুখ খুললাম। কিন্তু বাস্তব হল, আমি ঘটনা ঘটার সময়ই বিষয়টি দলকে জানিয়েছি। আমি একা নই, আমাদের দলে এমন আরও বহু মেয়ে রয়েছে, যারা চুপ করে সহ্য করেছে। আমি তাদের ভয়েস হয়ে কথা বলছি।”

তবে রাজন্যার এই যুক্তিতে চিড় খুঁজে পাচ্ছে বিরোধীপক্ষ। বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) এক ধাক্কায় প্রশ্ন তুলে দেন তৃণমূলের নেতৃত্ব কাঠামো এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নিয়ে। তার কটাক্ষ, “হঠাৎ করে নেতা-নেত্রী হয়ে গেলে এরকমই হয়। যে যার মতো দলে ঢুকছে, আবার নিজের মতো সরে যাচ্ছেও। নেত্রী এতটাই ব্যস্ত এসব সামলাতে যে প্রশাসন কোথায়, কেউ জানেই না।”

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT