Starlink : রইল না আর কোনও বাধা, এলন মাস্কের স্টারলিংক পেয়ে গেল ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের অনুমতি

দেশ প্রযুক্তি

নিউজ পোল ব্যুরো : অনেকদিন আগেই জানা গিয়েছিল ইন্টারনেট পরিষেবায় ব্যপক বদল আনতে ভারতে পা রাখছে এলন মাস্কের (elon musk) স্টারলিংক (Starlink)। যা নিয়ে কম চর্চা হয়নি। চর্চা হয়েছে নেট দুনিয়ায় জিও, এয়ারটেল, বিএসএনএল-এর মত কোম্পানির ভবিষ্যৎ নিয়েও। এই আবহেই কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন এলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন স্টারলিংক ভারতে স্যাটেলাইট পরিষেবা চালু করার লাইসেন্স পেয়েছে। ১৯৯৫ সালে দেশে প্রথম সেলুলার কল চালুর ৩০ তম বার্ষিকীর প্রাক্কালেই এই বড় ঘোষণা করা হয়েছে।

জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া জানিয়েছেন, “ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করার জন্য স্টারলিংককে একটি ইউনিফাইড লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। স্পেকট্রাম বরাদ্দ এবং গেটওয়ে স্থাপনের জন্য কাঠামো প্রস্তুত, যা মসৃণভাবে চালু করার বিষয়টি নিশ্চিত করবে।” তবে মাত্র মাত্র ২০ লক্ষ গ্রাহককে পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। স্টারলিংকের পাশাপাশি, ভারতী গ্রুপ-সমর্থিত ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব এবং জিও এসইএসও তাদের স্যাটকম পরিষেবা চালু করার জন্য স্পেকট্রাম বরাদ্দের অপেক্ষায় রয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেছেন, গত ১১ বছরে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে, ভারতের ডিজিটাল রূপান্তর অসাধারণ ঘটনা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কথায়, “প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে ব্যস্ত শহর পর্যন্ত, ডিজিটাল অ্যাক্সেস নাগরিকদের ক্ষমতায়ন করেছে, বিভেদ দূর করেছে এবং ভারতকে সাশ্রয়ী মূল্যের, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিশ্বনেতা করে তুলেছে।” সিন্ধিয়ার সংযোজন দেশে টেলিফোন সংযোগ এখন ১.২ বিলিয়নে দাঁড়িয়েছে এবং ইন্টারনেট সাবস্ক্রিপশন প্রায় ২৮৬ শতাংশ বেড়ে ৯৭ কোটিতে পৌঁছেছে। বলেছেন, “ব্রডব্যান্ড ব্যবহার ১,৪৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২০১৪ সালে ৬ কোটি থেকে বেড়ে আজ ৯৪ কোটিতে পৌঁছেছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মোবাইল ডেটার দাম ৯৬.৬ শতাংশ কমেছে, যার ফলে ভারত প্রতি জিবি মাত্র ৮.৯ টাকায় সাশ্রয়ী মূল্যের ডেটার ক্ষেত্রে বিশ্বনেতা হয়ে উঠেছে।”

আরও পড়ুন : Durga Puja : এক লাফে অনুদান বাড়ল ২৫ হাজার, দুর্গাপুজোয় কমিটিগুলিকে বড় উপহার মমতার

তবে শুধু স্টারলিং-এর (Starlink) কথা নয় সিন্ধিয়া আরও বলেছেন, বিএসএনএলের (BSNL) পুনরুজ্জীবন একটি বড় সাফল্য। তাঁর কথায়, “১৮ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো, বিএসএনএল ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পরপর ২৬২ কোটি টাকা এবং ২৮০ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে। ৮৩,০০০ এরও বেশি ৪জি সাইট ইনস্টল করা হয়েছে, যার মধ্যে ৭৪,০০০ ইতিমধ্যেই চালু রয়েছে, সবগুলোই দেশীয়ভাবে উন্নত প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি। ক্র্যাক টিম, এআই-চালিত পর্যবেক্ষণ এবং ১২ ঘন্টার মধ্যে ফাইবার ফল্ট সমাধানের ফলে পরিষেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে।” এখনেই সেস নয় প্রযুক্তির উন্নতির কথা বলে তিনি বলেছেন, ভারতের দ্রুত ৫জি রোলআউট ৯৯.৬ শতাংশ জেলায় পৌঁছেছে, যেখানে ৪.৭৪ লক্ষ ৫জি টাওয়ার এবং ৩০ কোটি ব্যবহারকারী রয়েছে। অন্যদিকে, ভারতে প্রথম সেলুলার কলের ৩০তম বার্ষিকী উপলক্ষে মন্তব্য করতে গিয়ে, টেলিকম শিল্প সংস্থা COAI-এর ডিরেক্টর জেনারেল এসপি কোচার বলেন, ১৯৯৫ সালে দেশের প্রথম সেলুলার কলের পর থেকে ভারতের টেলিকম সেক্টরে এক অসাধারণ পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন দেশে মোবাইল পরিষেবার ল্যান্ডস্কেপ 2G দিয়ে শুরু হয়েছিল এবং এখন ভারতের ৮৫ শতাংশেরও বেশি জনসংখ্যা এবং ভারতের ৯৯ শতাংশেরও বেশি জেলা 5G পরিষেবা উপভোগ করে।

নিউজ পোল বাংলা ফেসবুক পেজের লিঙ্ক: https://youtube.com/@thenewspole