নিউজ পোল ব্যুরো: চার মাস পেরিয়ে গেলেও মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) সামশেরগঞ্জে ঘটে যাওয়া হিংসাত্মক ঘটনার মূল অভিযুক্তরা এখনও অধরা। এই প্রেক্ষিতে তদন্তে গতি আনতে রাজ্য সরকার ও SIT-এর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দেয় তদন্ত দ্রুত শেষ করতে হবে এবং পলাতক মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
আরও পড়ুন: Starlink India Approval: সরকারি অনুমোদনের অপেক্ষায় স্টারলিঙ্ক
প্রসঙ্গত, ওয়াকফ আইন (Waqf Bill) প্রত্যাহারের দাবিকে কেন্দ্র করে সামশেরগঞ্জ ও ধুলিয়ান এলাকায় ভয়াবহ অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ হারান হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাস। এই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ইতিমধ্যেই রাজ্য হাই কোর্টে (Calcutta High Court) জানিয়েছে, ৫৮৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং একাধিক চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। তবে অনেকেই এখনও পলাতক। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, রাজ্যের ডিজিকে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দিতে হবে এবং পরবর্তী শুনানির আগেই তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। সেইসঙ্গে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যতদিন না আদালতের পক্ষ থেকে নতুন নির্দেশ আসে, ততদিন সামশেরগঞ্জে কেন্দ্রীয় বাহিনী, অর্থাৎ বিএসএফ-এর (BSF) ১০ কোম্পানি মোতায়েন থাকবে।
বিচারপতিরা আরও জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথভাবে চিহ্নিত করে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে রাজ্য সরকারকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ইতিমধ্যেই এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন।
তবে হাই কোর্ট (Calcutta High Court) স্পষ্ট করে দিয়েছে শুধু ক্ষতিপূরণে দায়িত্ব শেষ হয় না, প্রকৃত বিচার ও দায় নির্ধারণ অত্যাবশ্যক। ফলে SIT-কে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর তদন্ত শেষ করতে হবে। আগামী সাত সপ্তাহ পরে মামলার পরবর্তী শুনানি। এই নির্দেশের মাধ্যমে আদালত বুঝিয়ে দিল, দীর্ঘসূত্রিতা বরদাস্ত নয়! শান্তি ফিরিয়ে আনতেই হবে, এবং ন্যায়বিচার যেন দীর্ঘ প্রতীক্ষায় না ঠেকে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
