Mercury Pollution: দিল্লির বাতাসে বিষের ছড়াছড়ি

অন্যান্য স্বাস্থ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: ভারতের রাজধানী দিল্লি (Mercury Pollution) আজ দেশের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলির মধ্যে অন্যতম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং পরিবেশ গবেষণা সংস্থাগুলির তথ্য বলছে, এখানকার বাতাসে (Air Pollution) ভাসমান ধূলিকণা, বিষাক্ত গ্যাস এবং ক্ষতিকর ধোঁয়ার মাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। প্রতিদিন রাস্তায় বেরোলেই নাক-মুখে জ্বালা অনুভূত হয়। হাঁপানি (Asthma) বা সিওপিডি (COPD) রোগীদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন: Eye Care: চোখে কনট্যাক্ট লেন্স? সামান্য অসতর্কতাই ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ

কয়েক মাস আগে এক গবেষণায় জানা গিয়েছিল, দিল্লির বাতাসে (Microplastic) ভেসে বেড়াচ্ছে, যা শ্বাসের সঙ্গে মানবদেহে প্রবেশ করছে। সম্প্রতি পুণের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মেটিয়োরোলজির এক সমীক্ষায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। শুধু গ্রিন হাউস গ্যাস (Greenhouse Gas) বা প্লাস্টিকই নয়, দিল্লির বাতাসে জমছে বিষাক্ত (Mercury)। ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের রিপোর্টে জানানো হয়েছে, প্রতি ঘন মিটার বাতাসে পারদের উপস্থিতি ৬.৯ ন্যানোগ্রাম। ‘Air Quality Atmosphere and Health’ জার্নালে প্রকাশিত তথ্য বলছে, এই মাত্রা উত্তরোত্তর বাড়ছে।

পারদের উৎস মূলত যানবাহনের ধোঁয়া (Vehicle Emission), জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো এবং কলকারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাস। ডিজেলচালিত গাড়ি থেকে বেরোয় (Carbon dioxide, Sulphur dioxide, Carbon monoxide)–এর মতো ক্ষতিকর উপাদান। পুরনো বা ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়া ইঞ্জিন থেকে দূষণের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। এছাড়া পঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের চাষিরা জমি পরিষ্কারের জন্য খেতের আগাছা পোড়ান। সেই ধোঁয়া দিল্লির আকাশ ঢেকে ফেলে (Smog) এবং দীর্ঘ সময় ধরে বাতাসে বিষাক্ত উপাদান মিশিয়ে রাখে। আগে এই ধোঁয়াশা শীতকালে দেখা যেত, এখন প্রায় সারা বছরই পরিস্থিতি একই থাকে।

গবেষকেরা সতর্ক করছেন, দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসের সঙ্গে (Mercury) রক্তে মিশলে তা স্নায়ুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করে। এতে স্মৃতিশক্তি হ্রাস, ডিমেনশিয়া, চোখের সংক্রমণ, এমনকি দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিডনি ও ফুসফুসের কোষ নষ্ট হয়, হাঁপানি ও শ্বাসকষ্ট বাড়ে। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়ে হৃদ্‌যন্ত্রে—রক্তে জমাট বাঁধার প্রবণতা তৈরি হয়, যা হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষত গর্ভবতী মহিলাদের শরীরে পারদের আধিক্য থাকলে গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়, ফলে জন্মের পর গুরুতর স্নায়বিক অসুখ দেখা দিতে পারে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole