নিউজ পোল ব্যুরো: ভোটার তালিকা পরিশোধন প্রক্রিয়া (এসআইআর) ঘিরে আবারও কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাতের আবহ। যেখানে এতদিন পর্যন্ত এসআইআর (SIR) কার্যকর হতে দেওয়া হবে না বলে প্রকাশ্যে জানিয়ে আসছিল তৃণমূল কংগ্রেস, এবার সেই সুরে পরিবর্তন এনে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ (Manoj Pant) সরাসরি নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) দ্বারস্থ হলেন। দাবি, এসআইআরে পরিচয়পত্র হিসাবে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ (Swasthya Sathi) কার্ড যেন গ্রহণ করা হয়।
এই দাবি শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট। কেন্দ্রের ‘বিহার মডেল’ অনুসরণে গোটা দেশে ভোটার তালিকা যাচাইয়ের যে কড়াকড়ি শুরু হতে চলেছে, তার প্রেক্ষিতে বাংলার এই প্রস্তাব কার্যত মমতা সরকারের পাল্টা চাল। কারণ, কেন্দ্রীয় নির্দেশিকায় আধার, ইপিআইসি ও রেশন কার্ড পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্র হিসেবে রাখা হয়নি। তার উপর সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) সাম্প্রতিক রায়েও কেন্দ্রের অবস্থানেই সায় মিলেছে। তবু, স্বাস্থ্যসাথীকে (Swasthya Sathi) পরিচয়পত্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব মমতা সরকারের রাজনৈতিক পরিকাঠামোর মধ্যেই পড়ে।
নির্বাচন কমিশন (Election Commission) ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজ্যগুলিকে প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করতে হবে। বিহারে চলমান এসআইআরের (SIR) অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে, প্রায় ৭৮.৯ মিলিয়ন ভোটারের মধ্যে ৭৫ শতাংশেরও বেশি নাম কোনও না কোনওভাবে ২০০৩ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে যুক্ত। এতেই কমিশনের আত্মবিশ্বাস, নতুন তালিকা ‘নির্ভুল’ করা সম্ভব।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
এই প্রেক্ষিতে মমতা সরকারের দাবি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ‘স্বাস্থ্যসাথী’ (Swasthya Sathi) শুধুই সরকারি প্রকল্প নয়, বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে যাওয়া এক রাজনৈতিক অস্ত্র, যার উপর ভরসা করে ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে বিপুল সমর্থন পেয়েছিল তৃণমূল। সেই কার্ডকেই এখন ভোটার যাচাইয়ের সরঞ্জাম হিসেবে যুক্ত করার প্রস্তাব— একদিকে রাজ্যের প্রশাসনিক পদক্ষেপ, অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রতিরোধের বার্তা।
