নিউজ পোল ব্যুরো:স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতির প্রতিশ্রুতির সঙ্গে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) দ্বিতীয় দফার শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu announcement) জানিয়েছেন, এবছরের পরীক্ষায় কমিশন নতুন ও উদ্ভাবনী পদ্ধতি অনুসরণ করেছে, যা পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হয়েছে।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/09/14/satyajit-ray-kishore-kumar-pather-panchali-story/
মন্ত্রী ব্রাত্য বসু আরও নিশ্চিত করেছেন, পরীক্ষা শেষ হতেই কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে মডেল উত্তরপত্র। এই উত্তরপত্র দু’বছর সংরক্ষিত থাকবে। পরীক্ষার্থীরা যদি কোনো ধরনের আপত্তি বা পর্যবেক্ষণ জানাতে চান, তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনলাইনের মাধ্যমে জানাতে পারবেন। পরবর্তী ধাপে নির্ধারিত সময়ে প্রকাশিত হবে ফলাফল, এবং ইন্টারভিউয়ের জন্য যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে।
এসএসসি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, নভেম্বর মাস থেকে শুরু হবে ইন্টারভিউ এবং ডিসেম্বরের ৩১ তারিখের মধ্যে সমস্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবছর স্কুল সার্ভিস কমিশন আরও একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে—প্রত্যেক পরীক্ষার উত্তরপত্র স্ক্যান করে সংরক্ষণ, পরীক্ষার সময় নির্ধারিত নিয়মাবলী কঠোরভাবে পালন, এবং পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পরিচয় যাচাইয়ের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttp://:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় ভিনরাজ্য থেকে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৩১,৩৬২। আজ, ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তরপ্রদেশ, বিহারসহ অন্যান্য রাজ্য থেকে ১৩,৫১৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, মোট ২,৪৬,০০০ এর বেশি পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯৩ শতাংশ পরীক্ষায় বসেছেন। এই উপস্থিতি এবং কার্যক্রম প্রমাণ করে, পরীক্ষা স্বচ্ছতার সঙ্গে, নির্ভুল নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়েছে।
একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে হিন্দি ভাষার জন্য শূন্যপদ রয়েছে ৩৭০। মূলত এই শূন্যপদ পূরণের জন্যই ভিনরাজ্য থেকে পরীক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করছেন। ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ প্যানেল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বাতিল হওয়ার পর এটি নতুনভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়ার সূচনা। দুই দিনের পরীক্ষা শেষে এখন প্রার্থীরা দীর্ঘদিনের ‘প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি’-র দাগ ছাড়িয়ে স্বচ্ছ ও দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের জন্য অপেক্ষা করছেন।
শিক্ষামন্ত্রী (Bratya Basu announcement) আরও উল্লেখ করেছেন, পরীক্ষা সংক্রান্ত সব উত্তরপত্রের স্ক্যানকৃত ইমেজ আগামী ১০ বছর সংরক্ষিত থাকবে, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী পুনঃমূল্যায়ন বা যাচাই করা যায়। এই পদক্ষেপকে তিনি শিক্ষার জগতের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখেছেন।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার এই পুনঃসূচনা শুধুমাত্র প্রার্থীদের জন্য নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। আগামী নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর ডিসেম্বরের মধ্যে শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হবে।
