নিউজ পোল ব্যুরো:ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে পথের পাঁচালী এক অমর সৃষ্টি। সত্যজিৎ রায়ের (Unknown facts about Satyajit Ray) প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের এই চলচ্চিত্র শুধু বাংলা নয়, গোটা ভারতীয় সিনেমাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিতি এনে দিয়েছিল। তবে এই আইকনিক ছবির পেছনে রয়েছে এক বিস্ময়কর ঘটনা, যা হয়তো অনেকেরই অজানা। অর্থাভাবে মাঝপথে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল পথের পাঁচালী–র শুটিং, আর সেই সঙ্কটকালে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন কিংবদন্তি গায়ক কিশোর কুমার।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/09/14/ratan-tata-vs-gangster-secret-story/
১৯৫০-এর দশকের গোড়ার দিকে যখন সত্যজিৎ রায় ছবিটি বানাতে শুরু করেন, তখন তাঁর হাতে পর্যাপ্ত অর্থ ছিল না। সরকারি তহবিল কিংবা বড় প্রযোজকের সহায়তা ছাড়াই তিনি স্বপ্নের এই প্রজেক্টে হাত দেন। শুটিং শুরু হলেও কিছুদিনের মধ্যেই অর্থের জোগান একেবারেই ফুরিয়ে যায়। কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, অনেকেই মনে করেছিলেন এই ছবি আর হয়তো শেষ করা সম্ভব হবে না।
ঠিক তখনই এগিয়ে আসেন কিশোর কুমার। সেসময় গায়ন ও অভিনয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছিলেন তিনি। শোনা যায়, তিনি সত্যজিৎ রায়কে (Unknown facts about Satyajit Ray) মোটা অঙ্কের টাকা ধার দেন। সেই টাকাতেই আবারও শুরু হয় শুটিং, আর সম্পূর্ণ হয় পথের পাঁচালী। পরে এই ছবিই ভারতের গর্ব হয়ে ওঠে। কানের মঞ্চে বাজে পথের পাঁচালীর জয়ধ্বনি, আন্তর্জাতিক পুরস্কার আর স্বীকৃতি পায় ভারতীয় সিনেমা।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttp://:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
তবে টাকার ক্ষেত্রে কিশোর কুমারের অন্য রূপও ছিল। তিনি কখনো নিজের ন্যায্য পাওনার সঙ্গে আপস করতেন না। একবার এক সিনেমায় তাঁকে অর্ধেক পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছিল। কিশোর কুমার এর প্রতিবাদে অভিনব উপায় বেছে নেন। মুখের কেবল একপাশে মেকআপ করে তিনি সরাসরি শুটিং ফ্লোরে হাজির হন। এই দৃশ্য দেখে পরিচালক হতবাক হয়ে যান। শেষ পর্যন্ত তাঁকে পুরো পারিশ্রমিক দিতেই হয়।
একদিকে সত্যজিৎ রায়ের মতো মহান পরিচালকের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর অসমাপ্ত স্বপ্নকে পূরণে সহায়তা করেছিলেন কিশোর কুমার, অন্যদিকে নিজের পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য নিয়ে ছিলেন একেবারেই আপসহীন। মানবিকতা আর দৃঢ়তার এই অনন্য মিশ্রণই তাঁকে করে তুলেছিল আলাদা।
আজও সেই ইতিহাস মনে করিয়ে দেয়, কিশোর কুমারের সহায়তা না পেলে হয়তো জন্মই নিত না পথের পাঁচালী, আর ভারতীয় সিনেমার স্বর্ণযুগ থেকে হারিয়ে যেত এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।
