নিউজ পোল ব্যুরো: তফসিলি জাতিভুক্ত মানুষের জন্য প্রশাসনিক পরিকাঠামো আরও সরল ও নাগালের মধ্যে আনার পথে আরও একধাপ এগোলো পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এবার এসসি শংসাপত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ম শিথিল করার ভাবনায় সম্মতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সোমবার নবান্নে (Nabanna) আয়োজিত রাজ্য তফসিলি জাতি উন্নয়ন পর্ষদের পর্যালোচনা বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ওঠে। মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে বলেন, প্রকৃতভাবে যোগ্য মানুষ যাতে দ্রুত পরিষেবা পান, তা নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, শংসাপত্রের ক্ষেত্রে কোনওরকম ভুয়ো দাবি বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।
আরও পড়ুন: SIR: “একটাও ভুল ধরা পড়লে, গোটা প্রক্রিয়া বাতিল করে দেওয়া হবে”, কমিশনকে সতর্ক করল সুপ্রিম কোর্ট
বৈঠকে মতুয়া ও নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের জন্য স্থবির হয়ে পড়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলিকে ফের সক্রিয় করার দাবি তোলেন রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। বাগদায় ইংরেজি মাধ্যম স্কুল চালুর বিষয়টি সহ উদ্বাস্তু মতুয়া সম্প্রদায়ের জন্য পাট্টা প্রদানের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানান, রাজ্য সরকার কতটা পরিকল্পিতভাবে তফসিলি জাতিভুক্ত মানুষের উন্নয়নে কাজ করে চলেছে। তিনি লেখেন, “২০১০-১১ সালে অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দফতরের বাজেট ছিল মাত্র ১৬০ কোটি টাকা, যা ২০২৫-২৬ সালে বেড়ে হয়েছে ১,৭৬১ কোটি টাকা। গত ১৪ বছরে রাজ্য সরকার ৯৯ লক্ষ ৯১ হাজারের বেশি তফসিলি জাতিগত শংসাপত্র দিয়েছে। এছাড়াও মোট ১ কোটি ৬৭ লক্ষেরও বেশি জাতিগত শংসাপত্র প্রদান করা হয়েছে।”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
মুখ্যমন্ত্রী আরও তুলে ধরেন শিক্ষাক্ষেত্রে রাজ্যের অগ্রগতি। ‘শিক্ষাশ্রী’, প্রি-ম্যাট্রিক ও পোস্ট-ম্যাট্রিক স্কলারশিপ প্রকল্পের মাধ্যমে তফসিলি জাতিভুক্ত ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। হোস্টেল নির্মাণেও রাজ্য উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে— চালু হয়েছে ৩৪টি গার্লস হোস্টেল, ১২টি বয়েজ হোস্টেল, ২৮টি সেন্ট্রাল হোস্টেল ও ৯৭টি আশ্রম হোস্টেল।
