নিউজ পোল ব্যুরো: এবার পুজোর ছুটিতে পাহাড়ে (Hill Tourism in Bengal) ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা অনেকেরই ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। নেপালে ‘Gen Z Movement’-এর (Nepal Political Crisis) জেরে ওলি সরকারের পতন এবং সিকিমে (Sikkim Landslide) টানা বৃষ্টির কারণে ধস নামায় যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিপর্যস্ত। ফলে বুকিং বাতিল করছেন বহু পর্যটক। কেউই ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। আর এর মাঝেই কপাল খুলে গিয়েছে দার্জিলিং (Darjeeling), কালিম্পং (Kalimpong) এবং ডুয়ার্সের (Dooars Tourism)। এই তিন জায়গায় পুজোর ছুটিতে ভিড় জমতে চলেছে প্রচুর বাঙালি পর্যটকের।

প্রতিবছর পুজোর সময়ে বাঙালি পর্যটকরা পাহাড়ে (Bengal Tourists in Hills) ছুটে যান। তবে অনেকেই দার্জিলিং ছেড়ে নেপাল বা উত্তর সিকিমের (North Sikkim Offbeat Destination) অফবিট জায়গা বেছে নেন। কিন্তু এবার সেসব গন্তব্যে শঙ্কার ছায়া। উত্তর সিকিমের বুকিং পুরোপুরি বন্ধ। পর্যটন ব্যবসায়ীরা বিকল্প হিসেবে দক্ষিণ-পশ্চিম সিকিম (South Sikkim Travel) ভ্রমণের প্রস্তাব দিচ্ছেন। ফলে যাত্রীরা ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন দার্জিলিং, কালিম্পং এবং ডুয়ার্সের দিকে।
লাটাগুড়ি রিসর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক দিব্যেন্দু দে জানান, “পুজোর সময়ে সাধারণত ডুয়ার্সে খুব বেশি পর্যটক আসেন না। কিন্তু এবার অনেকেই যোগাযোগ করছেন। বুকিং চলছে জোর কদমে।” তিনি আরও বলেন, “অনেক ভ্রমণার্থী ভুটান (Bhutan Tour) যাচ্ছেন, একই যাত্রায় জলদাপাড়া (Jaldapara), চিলাপাতা (Chilapata), বক্সা পাহাড় (Buxa Tiger Reserve) ঘুরে দেখার পরিকল্পনাও করছেন। এতে আলিপুরদুয়ার (Alipurduar Tourism) জেলার ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন।” ইতিমধ্যেই ডুয়ার্সের বেশিরভাগ রিসর্ট বুক হয়ে গিয়েছে।

দার্জিলিং হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজয় খান্নার কথায়, “২৫ সেপ্টেম্বর থেকেই ভিড় শুরু হবে। বুকিংয়ের সাড়া এবার ভালো।” তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় কিছুটা কম। বিজয়বাবুর ব্যাখ্যা, “প্রতি বছর পুজোর দু’মাস আগে হোটেলের সব রুম বুক হয়ে যায়। এবারও বুকিং চলছে, কিন্তু প্রবল বৃষ্টির কারণে অনেকেই দ্বিধায় রয়েছেন।”কালিম্পংয়ের হোমস্টে মালিক পাসাং শেরপা বলেন, “১০ নম্বর জাতীয় সড়কে (NH-10 Road Condition) মাঝেমধ্যেই ধস নামছে। পর্যটকরা বারবার রাস্তার অবস্থা জানতে চাইছেন।” তবুও তিনি আশাবাদী, কারণ নেপাল বা উত্তর সিকিমে কেউ যেতে চাইছেন না, তাই দার্জিলিং-কালিম্পং বেছে নিচ্ছেন।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
তথ্য অনুযায়ী, দার্জিলিংয়ে সাড়ে তিনশো হোটেল, কালিম্পংয়ে দু’শো হোটেল রয়েছে। পুজোর সময়ে এগুলির অন্তত ৫০ শতাংশ রুম ইতিমধ্যেই বুক হয়ে গিয়েছে। পাহাড়ের সাড়ে তিন হাজার হোমস্টেতেও (Homestay Booking) বুকিংয়ের হিড়িক চলছে।
