নিউজ পোল ব্যুরো: প্রবল বর্ষণে জলমগ্ন কলকাতায় মৃত্যুর মিছিল। মঙ্গলবার রাতের প্রবল বৃষ্টির পর শহরের বিভিন্ন প্রান্তে জমে থাকা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৮ জন। তাদের মধ্যে ৭ জনই কলকাতার (Kolkata) বাসিন্দা। এই শোকাবহ পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক তৎপরতার পাশাপাশি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
আরও পড়ুন: School Puja Vacation: ভারী বর্ষণে আগাম পুজো ছুটি, রাজ্যের সিদ্ধান্তে বিতর্ক শিক্ষক মহলে
বুধবার সকালে মৃতদের মধ্যে জিতেন্দ্র সিং (মোমিনপুর) এবং শুভ প্রামাণিক (ঠাকুরপুকুর)-এর বাড়িতে পৌঁছন কলকাতার পুরসভার মেয়র ও রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। তাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন, শোকবার্তা জানান। মেয়রের ফোন থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) মৃতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। দুঃখের মুহূর্তে পাশে থাকার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতিশ্রুতি দেন, সরকার তাঁদের পাশে থাকবে সবরকম ভাবে।
ঘটনার জেরে ফের একবার বেসরকারি বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা সিইএসসি-র ভূমিকা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)। মঙ্গলবারই সাংবাদিক সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সিইএসসি-র গাফিলতিতেই এতগুলি প্রাণ ঝরল। আধুনিকীকরণের নামে ব্যবসা করছে, কিন্তু মানুষের নিরাপত্তার দিকেই নজর নেই।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “সিইএসসি-র উচিত, মৃতদের পরিবারের একজন করে সদস্যকে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া।”
শহরের যাদবপুর, পার্কসার্কাস, ভবানীপুর, একবালপুর, তারাতলা, নেতাজিনগর, ঠাকুরপুকুর সর্বত্রই জমা জলে জনজীবন বিপর্যস্ত ছিল মঙ্গলবার রাতভর। সেই জলই পরিণত হয়েছে মৃত্যুফাঁদে। প্রশাসনের তরফে অবশ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দল দ্রুত কাজে নামে, জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়। তবে প্রশ্ন থেকেই যায় প্রতি বছর বর্ষায় একই পরিস্থিতি কেন? আর কত প্রাণ যাবে অব্যবস্থার জেরে?রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া, এই ঘটনা শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, এটি একটি পরিকাঠামোগত ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। শহরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠছে সর্বত্র।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
