নিউজ পোল ব্যুরো: ভারতের নানা প্রান্তে যখন আলোর উৎসব দীপাবলি (Kali puja 2025) পালিত হয়, তখন উত্তর ও পশ্চিম ভারতে ধন ও সমৃদ্ধির দেবী লক্ষ্মী (Goddess Lakshmi) এবং সিদ্ধিদাতা গণেশ (Lord Ganesha)-এর আরাধনা করা হয়। কিন্তু বাংলায় এই দিনটিতেই পালিত হয় মহাশক্তির সংহাররূপ, দেবী কালী (Goddess Kali)-র পূজা। এই পার্থক্যের পেছনে রয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক, পৌরাণিক ও সাংস্কৃতিক ব্যাখ্যা, যা বাঙালির ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
আরও পড়ুন:Mohsin Naqvi punishment : এশিয়া কাপ নাটক অব্যাহত, শাস্তি হতে পারে নাকভির
কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতেই দীপাবলি পালিত হয়। এই তিথি তান্ত্রিক সাধনার জন্য অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয়। বাংলার সমাজে শাক্ত ধর্মের প্রভাব সুপ্রাচীনকাল থেকে প্রবল। কালীকে আদিশক্তি বা মহাশক্তির রূপে দেখা হয় যিনি সৃষ্টি, সংহার ও রূপান্তরের প্রতীক। অমাবস্যার গভীর রাতকে শক্তি সাধনার শ্রেষ্ঠ সময় ধরা হয়। তাই এই রাতেই বাংলায় কালীপুজো (Kali Puja) অনুষ্ঠিত হয়। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, দেবী দুর্গার কপাল থেকে কালী আবির্ভূত হয়েছিলেন অসুর বিনাশের জন্য। ভয়ংকর রক্তবীজ অসুরের রক্তের ফোঁটা মাটিতে পড়লেই নতুন অসুর জন্ম নিত। দেবী কালী সেই রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই পান করে অশুভ শক্তির সমূলে বিনাশ করেছিলেন। এই কাহিনি কালীপুজোর মূল বার্তা বহন করে—অন্ধকার, নেতিবাচকতা ও ভয়কে জয় করে আলোর পথকে বরণ করা।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
বাংলার তান্ত্রিক ঐতিহ্যে কালী হলেন মুক্তির প্রতীক। তিনি শুধু সংহারক নন, তিনি ধ্বংসের মধ্য দিয়ে সৃষ্টি ও নবজীবনের বার্তা দেন। তাই দীপাবলির রাতে বাংলার ঘরে ঘরে প্রদীপ জ্বেলে দেবী কালীর আরাধনা করা হয় আত্মিক শক্তি ও নির্ভীকতার আহ্বানে। এছাড়াও, এই দিনে দেবী লক্ষ্মীরও পূজা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, লক্ষ্মী ও কালী একই মহাজাগতিক শক্তির দুটি ভিন্ন রূপ। কালী শক্তির প্রতীক, আর লক্ষ্মী সম্পদের। এই রাতে অলক্ষ্মী বা দুর্ভাগ্যের প্রতীককেও বিদায় জানিয়ে লক্ষ্মীকে বরণ করে নেওয়া হয়, যাতে পরিবারে শান্তি, সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে।
বাঙালিরা বছরে দু’বার লক্ষ্মী পুজো করে একবার আশ্বিন মাসের পূর্ণিমায় কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো (Kojagari Lakshmi Puja) এবং দ্বিতীয়বার কার্তিক মাসের অমাবস্যায় দীপান্বিতা লক্ষ্মী পুজো (Deepanwita Lakshmi Puja)। এ বছর এই পুজো অনুষ্ঠিত হবে ২০ অক্টোবর, সোমবার। এই দিনটি বাঙালির জন্য শুধু আলোর উৎসব নয়, আধ্যাত্মিক শক্তির জাগরণেরও দিন।
