নিউজ পোল ব্যুরো: তীব্র মাথার যন্ত্রণা, চোখে ঝাপসা দেখা, বমি বমি ভাব, আলো ও শব্দে অসহ্যতা—এই উপসর্গগুলি দেখা দিলেই অনেকেই বুঝে যান যে সমস্যা শুরু হয়ে গিয়েছে। কারও কপালের একদিকে ব্যথা হয়, আবার কারও মাথার পিছনের অংশে টান টান যন্ত্রণা অনুভূত হয়। অনেক ক্ষেত্রেই চোখের চারপাশে প্রচণ্ড চাপের মতো ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে। এই অবস্থায় সামান্য আলো, উচ্চ শব্দ কিংবা ভিড়—সবকিছুই অসহ্য মনে হয়। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব, অনিয়মিত খাওয়া, হরমোনের পরিবর্তন কিংবা দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলেও মাইগ্রেন (Migraine) হঠাৎ চেপে বসতে পারে। এমন সময়ে অনেকেই ঘরোয়া উপায় হিসেবে এক কাপ কফির (Coffee) শরণ নেন। কিন্তু এই কফিই (Coffee) কি সত্যিই মাইগ্রেনের যন্ত্রণার আসল দাওয়াই?
চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে কফির (Coffee) উপকারিতা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না, তবে এর প্রভাব সীমিত। আমাদের মস্তিষ্কে অ্যাডিনোসিন নামে একটি রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে, যার মাত্রা বেড়ে গেলে মাইগ্রেনের (Migraine) ব্যথা শুরু হতে পারে। এই অ্যাডিনোসিন সাময়িকভাবে রক্তনালিকে প্রসারিত করে এবং স্নায়ুর কার্যকলাপ ধীর করে দেয়। কফিতে (Coffee) থাকা ক্যাফেইন সেই অ্যাডিনোসিনের রিসেপ্টরকে আটকে দেয়, ফলে রক্তনালির অস্বাভাবিক প্রসারণ কিছুটা কমে এবং ব্যথা সামান্য উপশম পায়। এই কারণেই অনেক ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের (Migraine) শুরুতে অল্প পরিমাণ কফি খেলে কিছু সময়ের জন্য আরাম পাওয়া যায়। তবে এখানেই লুকিয়ে রয়েছে বিপদের বীজ। নিয়মিত কফি খেলে শরীর ধীরে ধীরে ক্যাফেইনের প্রতি সহনশীল হয়ে ওঠে। তখন আর আগের মতো আরাম পাওয়া যায় না, বরং উল্টে কফি নিজেই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ করলে ‘মেডিকেশন ওভারইউজ হেডেক’-এর মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেখানে মাইগ্রেন কমার বদলে আরও ঘন ঘন ফিরে আসে। অনেক সময় কফি বন্ধ করলেই আবার তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয়, যাকে বলা হয় ক্যাফেইন উইথড্রয়াল হেডেক।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
যারা দীর্ঘদিন ধরে ক্রনিক মাইগ্রেনে (Migraine) ভোগেন, তাদের ক্ষেত্রে কফির ব্যবহার আরও বেশি সতর্কতার সঙ্গে করা দরকার। সপ্তাহে সীমিত সংখ্যক দিন কফি খাওয়া তুলনামূলক নিরাপদ। তবে শুধু কফির (Coffee) উপর ভরসা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ, নিয়মিত ঘুম, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিক চাপ কমানো—এই সবকিছুকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। সাময়িক আরাম দিলেও কফি যে মাইগ্রেনের (Migraine) স্থায়ী সমাধান নয়, তা মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
