নিউজ পোল ব্যুরো: জঙ্গিবাদের বিস্তার রুখে দিতে কঠোর অবস্থান নিল অসম (Assam) সরকার। রাজ্য প্রশাসন ঘোষণা করেছে যে, ধর্মের নামে উগ্রপন্থা ছড়ায় বা সহিংস মতাদর্শে প্ররোচনা দেয় এমন সব ধরনের ‘জিহাদি সাহিত্য’ এখন থেকে অসমে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই ধরনের বই, পুস্তিকা বা ডিজিটাল উপকরণ প্রকাশ, বিতরণ, বিক্রি বা ব্যক্তিগতভাবে রাখা সবই আইনত অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
আরও পড়ুন: Vladimir Putin: পুতিনের সফরের আবহেই অস্বস্তি, কুদানকুলাম নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টে বোমা হামলার হুমকি!
অসম (Assam) বহুদিন ধরেই সীমান্ত সংলগ্ন রাজ্য হওয়ায় অবৈধ অনুপ্রবেশের সমস্যার মুখোমুখি। বর্তমানে রাজ্যের একটি বড় অংশ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বসবাস। গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, এই প্রেক্ষাপটকে কাজে লাগিয়ে কিছু জঙ্গি সংগঠন বিভিন্ন ইসলামিক মৌলবাদী লেখা ও প্রচারপত্রের মাধ্যমে তরুণদের চিন্তাজগতে প্রভাব বিস্তার করছে। তাদের মতে, জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি), আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এবং আনসার-আল-ইসলামের মতো সংগঠনগুলি গোপনে সংখ্যালঘু-প্রধান এলাকাগুলিতে নিজেদের নজরদারি এবং যোগাযোগ বৃদ্ধি করছে।
অসম (Assam) পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, এসব জঙ্গি সংগঠন যুবসমাজকে প্রলুব্ধ করতে নানা ধরনের ধর্মীয় আড়ালে প্রচারিত গ্রন্থ ব্যবহার করছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, ধর্মীয় বক্তৃতা, প্রচারসভা বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিষিদ্ধ সাহিত্য সযত্নে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের মতে, এসব কার্যকলাপ শুধু রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য বিপজ্জনক নয়, পাশাপাশি ধর্মীয় বিভাজনও বাড়িয়ে তুলছে, যার ফলে সামাজিক অস্থিরতার সম্ভাবনা অস্বীকার করা যায় না।
গোয়েন্দা রিপোর্টে এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির উল্লেখ পাওয়ার পরই সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, যেসব সংগঠনের সামগ্রী নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তারা আগেই জঙ্গি সংগঠন হিসেবে ঘোষিত। ফলে জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই বিধিনিষেধ প্রয়োজনীয়।
তবে সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির একাংশের মনে আশঙ্কা রয়েছে। তাদের অভিযোগ, সরকার এই সিদ্ধান্তের আড়ালে ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চাইছে এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের স্বাভাবিক ধর্মীয় সাহিত্য বা শিক্ষাও এতে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। যদিও সরকার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, নিষিদ্ধ করা হয়েছে কেবল সেইসব উপকরণ, যা সন্ত্রাসবাদের মতাদর্শকে পুষ্ট করে এবং রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে প্ররোচনা দেয়। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য কোনও ধর্মীয় গোষ্ঠীকে দমন করা নয়, বরং জঙ্গিবাদের বিস্তার রোধ করে রাজ্যের নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
