Jadavpur University event:বামপন্থী বিদ্বজ্জনদের নতুন মঞ্চে ‘পরিবর্তন’ শব্দের বদলে ‘বিকল্প’!

রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো:বিধানসভা ভোটের আগের বছরে রাজ্যের বাম মনোভাবাপন্ন শিল্পী,সাহিত্যিক,অভিনেতা ও নাট্যপরিচালকরা নতুন মঞ্চে মিলিত হয়েছেন।রবিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University event) ইন্দুমতী সভাগৃহে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে আলোচনার মূল বিষয় ছিল—রাজ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিকল্প সম্ভাবনা।তবে আলোচনার মঞ্চে বিশেষ নজর কেড়েছে ‘পরিবর্তন’ শব্দের বদলে ‘বিকল্প’ শব্দের ব্যবহার।

আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/10/12/mamata-banerjee-comment-durgapur-student-assault-controversy/

অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে বলা হয়েছিল,-“রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের বাধ্য করছে ভাবতে যে,একটা পরিবর্তনের প্রয়াস জরুরি।”কিন্তু মঞ্চের পিছনে ঝোলানো ব্যানারে লেখা ছিল,-‘প্রকৃত বিকল্পের সন্ধানে’।সিপিএম সূত্রে খবর,-‘সচেতনভাবে’ এভাবে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

২০১১ সালের আগে ‘পরিবর্তন চাই’ স্লোগান রাজ্যজুড়ে দেখা যেত।সেসময় অসংখ্য বিদ্বজ্জনের মুখ সেই হোর্ডিংয়ে স্থান পেত।পরবর্তী সময়ে অনেকে তৃণমূলে যোগ দিয়ে সাংসদ, বিধায়ক বা মন্ত্রী হয়েছেন।তালিকায় ছিলেন কবীর সুমন,ব্রাত্য বসু,অর্পিতা ঘোষদের মতো শিল্পী।আবার অপর্ণা সেন,কৌশিক সেনের মতো অনেকে এখন তৃণমূলের সমালোচক হলেও তৃণমূলের প্রতি এখনও ‘বীতশ্রদ্ধ’ রয়েছেন।

রবিবারের আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা—পবিত্র সরকার,শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়,চন্দন সেন,শ্রীলেখা মিত্র,দেবদূত ঘোষ,জয়রাজ ভট্টাচার্য—বাম নেতৃত্বে বিকল্প তৈরি ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।দেবদূত বলেন,-“বাম নেতৃত্বে বিকল্প তৈরি করতে সাংস্কৃতিক পরিসরের মানুষ ব্যক্তিগতভাবে কী করতে পারেন,তা নিয়েই আমাদের আলোচনা হয়েছে।”

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttp://:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT

অনুষ্ঠান শুরুতে একটি তথ্যচিত্র দেখানো হয়,-যেখানে তৃণমূল ও বিজেপির শাসনের নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরা হয়।এরপর একে একে বক্তারা নিজেদের মতামত পেশ করেন।আলোচনাসভার আমন্ত্রণপত্রে থাকা ‘পরিবর্তন’ শব্দটি মঞ্চে বদলে দেওয়া হয় ‘বিকল্প’ দিয়ে (Jadavpur University event)।

অনুষ্ঠানের শেষ দিকে বক্তারা রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়গুলোর উপর ভবিষ্যতের কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করেন। তারা মনে করিয়েছেন যে, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বামপ্রধান সংস্কৃতিজগতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ও শিল্পচর্চা রক্ষার জন্য নতুন বিকল্প তৈরির প্রয়োজনীয়তা অত্যাবশ্যক।

শ্রোতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাম নেতৃত্বের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, যিনি বলেন, “এই মঞ্চ একটি চিন্তাশীল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে, যেখানে রাজ্যের মানুষ নতুন বিকল্পের দিকে দৃষ্টি দিতে পারবেন।”

এই উদ্যোগের মাধ্যমে বামপন্থী বিদ্বজ্জনেরা শুধু রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কথা ভাবছেন না, বরং সাংস্কৃতিক জগতের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যে ন্যায়পরায়ণ, মুক্ত ও বিকল্পমুখী পরিবেশ গড়ে তোলার কথাও ভাবছেন। রাজ্যের রাজনীতিতে কি এটি নতুন এক বিকল্পের সূচনা করবে, তা সময়ই দেখাবে।