Diwali 2025 : দীপাবলিতে বাজির ধোঁয়ায় বাড়ছে দূষণ, শিশুর সুস্থতায় এখনই নিন সচেতনতার পদক্ষেপ

স্বাস্থ্য

নিউজ পোল ব্যুরো:সামনেই কালীপুজো ও দীপাবলির উৎসব। সারা দেশ জুড়ে এই সময় আলোকসজ্জা (Lighting), প্রদীপ (Diyas) এবং রঙবেরঙের আলোয় উৎসবের আবহে মেতে ওঠে ছোট-বড় সবাই। আনন্দের পাশাপাশি এই সময়ের আর একটি দিকও ক্রমশই বাড়ছে চিন্তার কারণ হয়ে আতশবাজির (Firecrackers) ধোঁয়া ও বায়ুদূষণ (Air Pollution)। উৎসবের আনন্দে আমরা প্রায়ই এই দিকটি এড়িয়ে যাই। কিন্তু বাজি পোড়ানোর ফলে বাতাসে যে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে, তা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্তদের জন্য।

আরও পড়ুন: Nothing Phones: ভারতীয় বাজারে আসছে নাথিং ফোন ৩এ লাইট, টেক দুনিয়ায় ফের শোরগোল!

আতশবাজিতে থাকা সালফার ডাই অক্সাইড (Sulphur Dioxide), নাইট্রোজেন অক্সাইড (Nitrogen Oxides) এবং কার্বন মনোক্সাইড (Carbon Monoxide)-এর মতো বিষাক্ত গ্যাস পুড়ে বাতাসে মিশে যায়। এই গ্যাসগুলি বাতাসের ঘনত্ব বাড়িয়ে মাটির কাছাকাছি স্তরে ধোঁয়াশা (Smog) তৈরি করে। ফলে শহর থেকে গ্রাম সব জায়গায়ই দূষণের মাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে অ্যাজমা (Asthma), সিওপিডি (COPD) বা হাঁপানির রোগীরা বেশি সমস্যায় পড়েন। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এই সময়টা বিশেষ সতর্কতার। ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে শ্বাসকষ্ট, কাশি, গলা জ্বালা ও ফুসফুসে প্রদাহের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই উৎসবের আনন্দ বজায় রেখে সুস্থ থাকার জন্য কিছু সচেতন পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।

প্রথমত, ভোরবেলা ও সন্ধ্যার দিকে ধোঁয়াশার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই এই সময় বাইরে না বেরোনোয় ভালো। বাইরে বেরোতেই হলে অবশ্যই মুখে মাস্ক (Mask) ব্যবহার করা উচিত, আর শিশুদের ক্ষেত্রেও এই অভ্যাস জরুরি। ঘরের জানলা-দরজা বন্ধ রাখুন এবং ভারী পর্দা (Curtains) ব্যবহার করুন, যাতে বাইরের ধোঁয়া ঘরে ঢুকতে না পারে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

দ্বিতীয়ত, বাজি না ফাটিয়ে বিকল্প উৎসবের আনন্দ বেছে নিন। প্রদীপ জ্বালানো বা আলোকসজ্জার মাধ্যমে উৎসবের আমেজ উপভোগ করা যেমন পরিবেশবান্ধব (Eco-friendly), তেমনই স্বাস্থ্যকরও। এতে আশেপাশের বায়ু নির্মল থাকে, শিশুরাও নিরাপদ থাকে।

তৃতীয়ত, নিজের শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোও সমান জরুরি। প্রতিদিন প্রাণায়াম (Pranayama) ও হালকা ব্যায়াম করলে ফুসফুস আরও শক্তিশালী হয়। পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান (Hydration) করলে শরীরের টক্সিন (Toxins) বেরিয়ে যায়। পাশাপাশি ভিটামিন সি (Vitamin C) সমৃদ্ধ ফল ও সবজি খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং ঠান্ডা-কাশির মতো সমস্যাও অনেকাংশে এড়ানো যায়।

উৎসব মানে আনন্দ, কিন্তু নিজের ও পরিবারের স্বাস্থ্য রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটু সচেতনতা ও সাবধানতা আপনাকে ও আপনার প্রিয়জনকে রাখতে পারে সুস্থ ও সুরক্ষিত। দীপাবলির আলো হোক আনন্দের প্রতীক, দূষণের নয়।