নিউজ পোল ব্যুরো: শরতের শেষ প্রহর, হালকা ঠান্ডা হাওয়া বইছে। বাতাসে এক রহস্যময় ভার মনে হচ্ছে কেউ যেন নিঃশব্দে এগিয়ে আসছে! রাতের নিস্তব্ধতা ভেদ করে ভেসে আসছে পায়ের শব্দ? কে সে? কোন অতীন্দ্রিয় শক্তি যেন পৃথিবীজুড়ে জেগে উঠছে! এই রহস্যময় অনুভূতিই যেন জড়িয়ে আছে দুই ভিন্ন সংস্কৃতির দুটি উৎসবে—ভারতের ভূত চতুর্দশী (Bhoot Chaturdashi) আর পাশ্চাত্যের হ্যালোউইন (Halloween Festival)। দু’টি উৎসবই মৃত আত্মা ও অলৌকিক শক্তির স্মরণে পালিত হয়, এবং কাকতালীয়ভাবে দুটোই আসে বছরের একই সময়ের কাছাকাছি। ৩১শে অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় হ্যালোউইন (Halloween Day)। এটি মূলত পশ্চিমা দেশগুলিতে প্রচলিত হলেও, আজ সারা পৃথিবীই এই উৎসবের মেজাজে মাতোয়ারা। প্রাচীন কেল্টিক (Celtic) জনগোষ্ঠীর প্রথা থেকে উদ্ভূত এই উৎসবের বয়স প্রায় দুই হাজার বছর। তারা এই দিনটিকে সামহেইন (Samhain Festival) নামে চিনত—গ্রীষ্মের সমাপ্তি ও শীতের সূচনার প্রতীক হিসেবে। কেল্টদের বিশ্বাস ছিল, এই রাতে জীবিত ও মৃতদের জগতের সীমানা মুছে যায়, মৃত আত্মারা পৃথিবীতে ফিরে আসে। তাই তারা আগুন জ্বেলে আত্মাদের সন্তুষ্ট করত, পশু বলি দিত এবং নিজেকে আত্মাদের নজর থেকে বাঁচাতে অদ্ভুত সব পোশাক পরে উৎসবে যোগ দিত।
পরে রোমান (Roman Influence) এবং খ্রিস্টধর্ম (Christian Church) এই উৎসবে নতুন রূপ দেয়। অষ্টম শতাব্দীতে চার্চ এই প্রথাকে ‘অল সেন্টস ডে’ (All Saints’ Day) বা ‘অল হ্যালোজ ইভ’ (All Hallows’ Eve)-এর সঙ্গে যুক্ত করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে “All Hallows’ Eve” থেকেই জন্ম নেয় “Halloween” শব্দটি। ১৯শ শতকে আইরিশ অভিবাসী (Irish Immigrants) দের হাত ধরে হ্যালোউইন আমেরিকায় জনপ্রিয়তা পায়। ধীরে ধীরে এটি ভৌতিক নয়, বরং আনন্দ-উৎসবে রূপ নেয়। এখন এই দিনে মানুষ ভূত, জাদুকর, ভ্যাম্পায়ার, এমনকি কার্টুন চরিত্র সেজে আনন্দ করে। শিশুরা ‘Trick or Treat’ খেলে, বাড়ি বাড়ি ঘুরে ক্যান্ডি (Candy Collection) সংগ্রহ করে। Pumpkin Lantern বা কুমড়ো খোদাই করে তৈরি করা আলোকিত মুখও হ্যালোউইনের প্রতীক।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
ভারতেও এখন হ্যালোউইনের ছোঁয়া পৌঁছে গেছে। বিশেষ করে বলিউড (Bollywood Halloween Party) তারকাদের হাত ধরে এই উৎসব জনপ্রিয় হয়েছে। কলকাতার আবাসনগুলোতেও দেখা যায় সাজগোজ, থিম পার্টি, ভয়াবহ পোশাকে ছবি তোলা ও আনন্দের উৎসব। বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণে এবার নতুন সংযোজন—‘হ্যালোউইন’, এক ভৌতিক অথচ রঙিন উৎসব, যা মিশে গেছে আধুনিক উৎসব-সংস্কৃতির সঙ্গে!
