Bengali Cartoon: বাংলা কার্টুনে ননটে-ফন্টের বাজিমাত

অফবিট

তপন কুমার দে: ননটে ফন্টের কার্টুনে (Bengali Cartoon) আছে বুদ্ধির ধার,বাটুল দি গ্রেট ভরা বোকামির মজায় ছেলেবেলায় হাদা-ভোদা থেকে ননটে – ফন্টের (Nonte-Fonte Cartoon) কার্টুন দেখেননি। খুঁজে পাবেন? কিংবা হাদা-ভোদার(handa-voda) অনাবিল আনন্দের ফুলঝুরি। যেখানে পাখা মেলে দিত কল্পনার ঘুড়ি আর পক্ষিরাজের ঘোড়া। অনেকেরই প্রিয় ছিল গ্রামীণ হিরো বাহাদুরের কাহিনী। তাতে মাটির সোঁদা গন্ধের সাথে মিশে থাকত শক্তি আর খুরধার বুদ্ধির ঝলক। এর পাশে ছিল টারজানের গাছের লতা ধরে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে অনায়াসে চলাফেরা করতে দেখে কল্পনার পাখা মেলে নিজেকে আকাশে ভাসিয়ে দেওয়ার রোমান্টিক ফ্যান্টাসি।

আরও পড়ুন: Japanese Hero:১০২ বছর বয়সেও মাউন্ট ফুজি জয় করলেন জাপানের কোকিচি আকুজাওয়া

অরণ্যদেবের আর এক নাম ছিল ফ্যানটম, যার সাত পুরুষের ইতিহাস বহু কিশোরের এক ছেলেবেলার দর্শন ছিল। এমন ছেলেবেলার কথা বাঙালি ভাবতেই পারবে না। যেখানে এই কার্টুন নায়কেরা (Nonte-Fonte Cartoon) অনুপস্থিত ছিল। বয়সের সাথে সাথে পরিণত বয়সে পৌঁছেও অভ্যাস ছাড়তে পারেননি। আছেন এমন অনেক বাঙালি। বাংলা ভাষা আর এই কমিক চরিত্র (comics) মিলেমিশে একাকার হয়ে ছিল। তার মধ্যে কোন খাদের মিশেল ছিল না। কিন্তু যদি বলা যায় যে বাংলা কার্টুনের জনক নারায়ণ দেবনাথ অনেক কার্টুন চরিত্র (Bengali Cartoon) এঁকেছেন। ভুলিয়েছেন বাংলা ও বাঙালির কিশোর মনকে। কিন্তু এখনকার দিনের উপযোগী হিসেবে হাদা-ভোদা, বাটুল দি গ্রেট -র থেকেও অনেক বেশী এগিয়ে রেখেছেন ননটে- আর ফন্টেকে। একটু বেশী স্মার্ট। এডগার রাইজ বরজের টারজানের মতই। যে চরিত্র অনেক বেশী আধুনিক যুগের সঙ্গে চলার জন্য মানানসই। তালের সাথে চলার উপযুক্ত। তাহলে কি মতভেদ আসবে?

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole


বিখ্যাত কার্টুনিস্ট নারায়ণ দেবনাথ (narayan debnath)বাঙালির কৈশোরকে সাজিয়ে দিয়েছিলেন কতকগুলি অসামান্য চরিত্র সৃষ্টির মধ্য দিয়ে। বাটুল দি গ্রেট কার্টুনে (Bengali Cartoon) বাঁটুলের ক্ষমতা অসীম। পাহাড়ের বড় টুকরো নিয়ে লোফালুফি খেলতে পারেন। এক হাতে থামিয়ে দিয়ে পারেন চলন্ত ট্রেন। কিন্তু তাঁকে পদে পদে বোকা বানিয়ে দেয় বিচ্ছুর দল। শেষে অবশ্য জোর করেই জয় দিয়ে শেষ হত। পাশাপাশি আপনি রাখুন ননটে আর ফন্টেকে। সেখানে মাস্টারমশাইকে বোকা বানিয়ে ট্রফি জেতাই হোক। মাছ ধরার জন্য বাহানা করে স্কুল ছুটি নেওয়া কিংবা উঁচু ক্লাসের দাদার শুধু কায়দা দিয়ে আটকে রাখার বুদ্ধি ও কৌশল একমাত্র ছিল ননটে-ফন্টের মগজে। কারণ নারায়ণ দেবনাথও নিজের জীবনের সংগ্রাম দিয়ে বুঝেছেন। বুদ্ধিং যস্য,বলং তস্য। আজকের ঝাঁ চকচকে চালাক দুনিয়া দেখার আগেই নারায়ণ দেবনাথ চলে গেছেন জগতের ওপারে। কিন্তু রেখে গেছেন অসামান্য কিছু চরিত্র। যেখানে কেউ সরল, কেউ চালাক। কেউ সৃজনশীল কেউবা সাধারণ গড়পরতা মানুষ। কিন্তু এগিয়ে ননটে আর ফন্টে। কি তাইনা?