নিউজ পোল না: ফিট ও সুস্থ থাকার জন্য অনেকে নিয়মিত ব্যায়াম করেন এবং সঠিক ডায়েট মেনে চলেন। এ ছাড়াও অনেকেই প্রতিদিন সকালে খালি পেটে গরম লেবুর জল, চিয়া বা ফ্ল্যাক্স বীজ ভেজানো জল পান করেন। সাম্প্রতিক সময়ে ফিটনেসের রুটিনে নতুন সংযোজন হয়েছে ঘি মিশ্রিত কফি। সাধারণত ব্ল্যাক কফি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো বলে ধরা হয়, তবে বর্তমানে ঘি মিশিয়ে কফি পান করার প্রবণতা বাড়ছে। এমনকি অনেক বলিউড সেলেব্রিটিও এই অভ্যাস গ্রহণ করেছেন।
সম্প্রতি অভিনেত্রী সোহা আলি খান তার ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও শেয়ার করে এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মনে করতেন ডায়েটে ঘি রাখা উচিত নয়। কিন্তু পুষ্টিবিদ রুজুতা দিওয়েকার ও অভিনেত্রী মালাইকা অরোরার সঙ্গে আলাপচারিতায় জানতে পারেন, ঘি আসলে একধরনের সুপারফুড, যাতে থাকে স্বাস্থ্যকর চর্বি। সেই কারণেই তিনি ট্রেন্ডের জন্য নয়, বরং কৌতূহলবশত ঘি দিয়ে কফি পান করে দেখতে চেয়েছেন। তবে সোহা এও বলেন, এই পানীয় সবার জন্য সমান উপকারী নয়।

বিশেষ করে যাঁদের হজমের সমস্যা, অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা পেটের অন্যান্য অসুবিধা আছে, তাদের জন্য এটি ক্ষতিকর হতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতনারায়ণ হাসপাতালের সিনিয়র ডায়েটিশিয়ান মোহিনী ডোংরে জানান, ঘি মিশ্রিত কফি শক্তি জোগায় এবং ক্লান্তি কমায়। তবে এর প্রভাব ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। অপরদিকে পুষ্টিবিদ কিরণ গুপ্ত বলেন, কফিতে ঘি মেশালে কফির ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট নষ্ট হয়।

পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস ও অ্যাসিডিটির ঝুঁকি বেড়ে যায়।কারা এড়িয়ে চলবেন?ডায়াবেটিস রোগী, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতাজনিত সমস্যায় ভুগছেন যাঁরা, তাদের ঘি কফি না খাওয়াই ভালো। কারণ এতে থাকা ফ্যাট শরীরে সহজে পোড়ে না এবং মেটাবলিজম ধীর করে দিতে পারে।

তাছাড়া যাঁরা নিয়মিত ওষুধ খান বা রক্তচাপের সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তবেই এই পানীয় গ্রহণ করা উচিত।সারসংক্ষেপে বলা যায়, ঘি দিয়ে কফি কিছু মানুষের জন্য শক্তিদায়ক হলেও সবার জন্য নয়। ব্যক্তির শরীর, খাদ্যাভ্যাস এবং স্বাস্থ্য পরিস্থিতির উপর নির্ভর করেই এর উপকারিতা বা ক্ষতি নির্ধারিত হয়। তাই অন্ধভাবে ট্রেন্ড অনুসরণ না করে, সঠিক পরামর্শ মেনে তবেই ঘি কফি গ্রহণ করা উচিত।
