নিউজ পোল ব্যুরো: অসমে (Assam) বহুবিবাহ রুখতে রাজ্য বিধানসভায় পাস হল নতুন কঠোর বিল। বৃহস্পতিবার পাস হওয়া ‘অসম বহুবিবাহ নিষিদ্ধকরণ বিল, ২০২৫’–এ বহুবিবাহকে সরাসরি অপরাধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং অপরাধীদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। বিলটি পাস হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himant Biswa Sharma) স্পষ্ট জানান, এই আইন কোনওভাবেই ইসলামবিরোধী নয় সত্যিকারের ধর্মমানুষই এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানাবেন।
আরও পড়ুন: Aadhaar Card: ডিসেম্বর থেকে মৃতদের আধার নিষ্ক্রিয় হবে অনলাইনে, জেনেবও নিন আবেদন করবেন কীভাবে
নতুন আইনে বলা হয়েছে, কেউ (Assam) বহুবিবাহ করলে তার জন্য সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। শুধু তাই নয়, দ্বিতীয় বিয়ের সময় প্রথম বিবাহের তথ্য গোপন করলে সেই অপরাধের জন্য দশ বছর পর্যন্ত কারাবাস এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ইসলাম কখনও বহুবিবাহকে উৎসাহ দেয় না এবং তুরস্কের মতো বহু মুসলিম প্রধান দেশেও বহুবিবাহ নিষিদ্ধ। পাকিস্তানেও (Pakistan) এ বিষয়ে বিশেষ কাউন্সিলের অনুমতি নেওয়ার বিধান রয়েছে।
এই বিলে শুধু অপরাধীর শাস্তি নয়, গোটা বিবাহপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দায়বদ্ধতাও স্পষ্ট করা হয়েছে। অর্থাৎ কাজি, পুরোহিত, গ্রামপ্রধান, অভিভাবক বা এমন যেকোনও ব্যক্তি, যিনি নিষিদ্ধ এই বিবাহকে উৎসাহ দেবেন বা ঘটাতে সহায়তা করবেন তারাও আইনের আওতায় শাস্তির মুখে পড়বেন। পাশাপাশি, ভুক্তভোগী নারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
দোষী প্রমাণিত ব্যক্তির জন্য প্রশাসনিক ও সামাজিক নিষেধাজ্ঞাও ধার্য করা হয়েছে। বহুবিবাহে দোষী সাব্যস্ত কেউ রাজ্য সরকারের কোনও চাকরির জন্য যোগ্য হবেন না, কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবেন না এবং পঞ্চায়েত বা পুরসভার কোনও নির্বাচনে অংশগ্রহণও করতে পারবেন না। তদুপরি, যদি কেউ একই অপরাধ বারবার করেন, প্রতিটি ক্ষেত্রে শাস্তি আগের তুলনায় দ্বিগুণ হবে এমন কঠোর বার্তাও দিয়েছে সরকার।
তবে বিলটি (Assam) পাসের আগেই বিরোধী কংগ্রেস, সিপিআই(এম) এবং রাইজোর দল বিধানসভা থেকে ওয়াকআউট করে প্রতিবাদ জানান। নতুন আইনটি রাজ্যের ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত এলাকা ছাড়া সব অঞ্চলে প্রযোজ্য হবে। তবে সংবিধানের ৩৪২ অনুচ্ছেদে সংজ্ঞায়িত তফসিলি জাতি ও জনজাতির সদস্যদের এই আইনের আওতায় আনা হয়নি।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
