নিউজ পোল ব্যুরো: কলকাতার বুকে রবিবার সংঘঘনিষ্ঠ একটি সংগঠনের আয়োজিত “৫ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ” অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের (CV Anand Bose) বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ দেখা দিয়েছে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সময় তিনি হিন্দিকে ‘রাষ্ট্রভাষা’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভাষাকে মা ও ধাত্রী মায়ের সঙ্গে তুলনা করেন। এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তিনি (Kunal Ghosh) বলেছেন, “ভারতের কোনও রাষ্ট্রভাষা নেই। হিন্দি রাষ্ট্রভাষা নয়। রাজ্যপালের এই মন্তব্য ভুল। আমরা আশা করি, তিনি প্রকাশ্যভাবে এই ভুল সংশোধন করবেন।”
সিভি আনন্দ বোস অনুষ্ঠানে বলেন, “আমি হিন্দিতে কথা বলার চেষ্টা করব। ভুল হলে ক্ষমা করবেন। হিন্দি আমাদের রাষ্ট্রভাষা। রাষ্ট্রভাষা মা হয়। ইংরেজি দাইমা বা ধাত্রী মা। দাইমা কখনও মায়ের মতো হয় না।” এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র আকার নেয়। কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) প্রশ্ন, ভাষাকে মা ও ধাত্রী মায়ের সঙ্গে তুলনা করে রাজ্যপাল কি বাংলাসহ অন্যান্য ভাষার মর্যাদা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছেন?
কুণাল ঘোষ সোমবার একটি ভিডিও বার্তায় বলেন, “গতকাল গীতাপাঠ অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল হিন্দিকে রাষ্ট্রভাষা বলে উল্লেখ করেছেন। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। ভারতের সংবিধানের অষ্টম তফসিলে ২২টি ভাষার সমান মর্যাদা রয়েছে। কোনো ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা বলা যায় না। হিন্দি বা ইংরেজি শুধু প্রশাসনিক কাজের জন্য ব্যবহার হয়, তা রাষ্ট্রভাষা নয়। এই ভুল বক্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “একজন প্রাক্তন আইএএস অফিসার এবং রাজ্যপালের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান থেকে এমন মন্তব্য আশা করা যায়নি। সমস্ত ভাষার সমান মর্যাদা রয়েছে। তাই আমরা চাই, রাজ্যপাল প্রকাশ্যভাবে এই ভুল সংশোধন করে নিন। এটা শুধু নীতি ও সংবিধান সম্মানের বিষয়ই নয়, পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে আবারও দেখা গেছে ভাষা ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা কতটা রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে। হিন্দি রাষ্ট্রভাষা প্রসঙ্গে রাজ্যপাল ও তৃণমূলের অবস্থান স্পষ্ট, যা রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপকে আরও উস্কে দিয়েছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
