নিউজ পোল ব্যুরো: সুস্থ থাকার জন্য ঘুম যে কতটা অপরিহার্য, তা আমরা সকলেই জানি। কিন্তু বাস্তবে অনেক মানুষই ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না। দিনের পর দিন নির্ঘুম রাত কাটানো শরীর ও মনের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে (Mental Health)। বিরক্তি, অবসাদ, মনঃসংযোগের ঘাটতি, উদ্বেগ— সবকিছুর মূলে লুকিয়ে থাকে অপর্যাপ্ত ঘুম। ঘুম না হওয়ার নানা কারণ থাকলেও, গবেষণায় দেখা যাচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজের অভাব এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। সেই খনিজটি হল ম্যাগনেশিয়াম (Magnesium)। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ-এর তথ্য অনুযায়ী, স্নায়ুতন্ত্র ও পেশির স্বাভাবিক কার্যকারিতায় ম্যাগনেশিয়ামের (Magnesium) ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, হৃদযন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখা, মেজাজ স্থিতিশীল রাখা— সব ক্ষেত্রেই এই খনিজ বিশেষভাবে সহায়ক (Mental Health)। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে, শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের (Magnesium) মাত্রা ঠিক থাকলে ঘুমের মানও উন্নত হয়।
আরও পড়ুন : Zubeen Garg : কুমোরটুলির শিল্পীর হাতে তৈরি জুবিন গর্গের মূর্তি, অসমে পাড়ি দেবে
ম্যাগনেশিয়াম (Magnesium) আসলে মস্তিষ্কে গামা-অ্যামাইনোবিউটারিক অ্যাসিড বা জিএবিএ নামক এক ধরনের নিউরোট্রান্সমিটারের নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়। এই জিএবিএ স্নায়ুকে শান্ত করতে সাহায্য করে, যার ফলে সহজে ঘুম আসে। পাশাপাশি ম্যাগনেশিয়াম (Magnesium) শরীরে সেরোটোনিন তৈরি করতেও সাহায্য করে, যা থেকে পরবর্তীতে মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদন হয়। মেলাটোনিনই মূলত শরীরকে জানিয়ে দেয় কখন ঘুমোতে হবে এবং কখন জেগে উঠতে হবে (Mental Health)। ফলে ঘুম-জাগরণের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে ম্যাগনেশিয়ামের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
চিকিৎসকদের মতে, ম্যাগনেশিয়ামের (Magnesium) বেশ কয়েকটি ভিন্ন ধরন রয়েছে, যার মধ্যে কিছু বিশেষভাবে ঘুমের সমস্যা কমাতে সহায়ক। তাই প্রয়োজন বুঝে অনেক সময় ম্যাগনেশিয়াম (Magnesium) সাপ্লিমেন্টও পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে শুধু ওষুধের উপর নির্ভর না করে দৈনন্দিন খাবারের মাধ্যমেই শরীরের এই খনিজের চাহিদা অনেকটাই মেটানো সম্ভব। কুমড়োর বীজ, কাঠবাদাম, ডার্ক চকলেট, সেদ্ধ পালংশাক এবং কলা— এই সব খাবারে যথেষ্ট পরিমাণ ম্যাগনেশিয়াম (Magnesium) পাওয়া যায়। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এই উপাদানগুলি রাখলে শুধু ভালো ঘুমই নয়, উদ্বেগ ও মানসিক চাপও (Anxiety Relief) অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
