নিউজ পোল ব্যুরো: ভোরের শান্ত সময় হোক কিংবা কাজের চাপে ভরা রোদঝলমলে দুপুর মাইগ্রেন (Migraine) যাদের নিত্যসঙ্গী, তাঁদের কাছে এই ব্যথা এক কথায় অসহনীয়। একবার শুরু হলে মনে হয় মাথার ভেতর যেন অবিরাম ধাক্কা লাগছে। আলো সহ্য হয় না, শব্দ বিরক্ত করে, সঙ্গে বমিভাব বা বমি সব মিলিয়ে স্বাভাবিক জীবন যেন থমকে যায়। অনেক সময় অন্ধকার ঘরে শুয়ে থাকা আর শক্তিশালী ওষুধই হয়ে ওঠে একমাত্র ভরসা।
তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এই যন্ত্রণার (Migraine) কিছুটা উপশম পাওয়া যেতে পারে খুব সহজ এক প্রাকৃতিক উপায়ে। কালোজিরের তেল, যা আমাদের ঘরেই সহজলভ্য, তাতেই লুকিয়ে থাকতে পারে আরামের চাবিকাঠি।
আরও পড়ুন:Makeup: চোখের তলার কালি ঢাকতে কারেক্টর না কনসিলার? মেকআপের সঠিক ধাপ জানলে মিলবে নিখুঁত লুক
এই তেলের প্রধান উপাদান ‘থাইমোকুইনোন’ (Thymoquinone), যা শরীরের প্রদাহ কমাতে কার্যকর। মাইগ্রেনের (Migraine) সময় মস্তিষ্কের স্নায়ুগুলিতে যে অতিরিক্ত উত্তেজনা তৈরি হয়, তা প্রশমিত করতে এই উপাদান সাহায্য করে। ফলে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক হয় এবং ব্যথা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।
কিছু সহজ ব্যবহার পদ্ধতি:
পুদিনা-কালোজিরে মিশ্রণ: দুই চামচ কালোজিরের তেলের সঙ্গে অল্প পুদিনার তেল মিশিয়ে কপালে হালকা করে মালিশ করুন। এতে শীতল অনুভূতি তৈরি হয়ে পেশির টান কমে যায়।
গরম তেলের থেরাপি: যাদের সাইনাসের সমস্যা আছে, তারা সমপরিমাণ কালোজিরে ও তিলের তেল হালকা গরম করে ঘাড় ও মাথায় মালিশ করতে পারেন। এতে রক্তসঞ্চালন উন্নত হয় এবং আরাম মেলে।
লেবু মিশ্রণ: এক চামচ কালোজিরের তেলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে কপালে লাগালে দ্রুত স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে।
ঘরে বসেই তৈরি করুন তেল: বাজারের তেলের তুলনায় ঘরে তৈরি তেল বেশি কার্যকর হতে পারে। এক কাপ কালোজিরে গুঁড়ো করে কাঁচের বোতলে রেখে তাতে নারকেল বা অলিভ তেল ঢেলে দিন। এরপর সেটি ৩-৪ দিন রোদে রাখুন। তেলের রং গাঢ় হয়ে এলে বুঝবেন এটি ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত।
মাইগ্রেন পুরোপুরি নির্মূল করা কঠিন হলেও, সঠিক যত্ন ও প্রাকৃতিক উপায়ের সাহায্যে এর প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব। নিয়মিত প্রয়োগে এই ঘরোয়া পদ্ধতিগুলি আপনার দৈনন্দিন জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
