CV Ananda Bose: মেসি বিতর্কে নতুন মোড়, যুবভারতীর বিশৃঙ্খলা নিয়ে শাহ-রাজ্যপাল সাক্ষাৎয়ের সম্ভাবনা

রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: আন্তর্জাতিক ফুটবল মহাতারকা লিয়োনেল মেসিকে এক ঝলক দেখার আশায় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে হাজির হয়েছিলেন হাজার হাজার দর্শক। কিন্তু প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্ষুব্ধ জনতার বিক্ষোভ ভাঙচুরের রূপ নেয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাজ্যের গর্বের স্টেডিয়াম যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন:SIR in West Bengal: খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ,নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে দেখে জানা যাবে বাদ পড়া নামের তথ্য

ঘটনার পর অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করা হলেও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্ট করে জনতার কাছে দুঃখপ্রকাশ করেন। তবে তাতেও বিতর্ক থামেনি। যুবভারতীতে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। গতকাল দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন রাজ্যপাল। প্রশাসনিক মহলে তাঁর এই আকস্মিক সফর ঘিরে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। রাজভবন সূত্রে জানা গেছে, যুবভারতীতে ঘটে যাওয়া ভাঙচুর ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতির বিষয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে, যা সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে জমা দিতেই রাজধানীতে গিয়েছেন তিনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে রাজ্যপালের সাক্ষাৎ হতে পারে বলেও জল্পনা চলছে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

রিপোর্টে মূলত অনুষ্ঠানের আয়োজন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির দিকটি তুলে ধরা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। উল্লেখযোগ্যভাবে, কলকাতা ছাড়াও হায়দরাবাদ, মুম্বই ও দিল্লিতে মেসি ও লুই সুয়ারেজদের উপস্থিতিতে ভরপুর স্টেডিয়ামেও কোথাও এমন বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, কলকাতায় কোথায় ব্যর্থতা রয়ে গেল?

এদিকে যুবভারতীর ঘটনার দায় নিয়ে রাজ্যের দুই মন্ত্রী—ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ, তাদের অতিরিক্ত উপস্থিতি ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টায় মেসি সাধারণ দর্শকদের সামনে আসতে পারেননি, যার ফলেই ক্ষোভ চরমে ওঠে।

ঘটনার পরদিন রাজ্যপাল নিজে স্টেডিয়াম পরিদর্শনে যান এবং পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে রাজভবনে ফিরে তিনি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরির নির্দেশ দেন। নবান্ন ও রাজভবনের সম্পর্ক এমনিতেই টানাপড়েনের মধ্যে। মেসি-কাণ্ড সংক্রান্ত রিপোর্ট কেন্দ্রে পৌঁছলে সেই দূরত্ব আরও বাড়বে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।