নিউজ পোল ব্যুরো: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার উপর বিশেষ নিবিড় সংশোধনী অভিযান চালানো হয়। এনুমারেশন ফর্ম (Enumaretion Form) বিতরণ ও সংগ্রহ, বাড়ি বাড়ি যাচাই এবং তথ্য মিলিয়ে দেখার দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন (Election Commission) প্রকাশ করেছে খসড়া ভোটার তালিকা। এই তালিকায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে কতজন ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, কতজন মৃত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন, কতজন স্থানান্তরিত হয়েছেন এবং কতজনকে ভুয়ো বা তথাকথিত ‘ভূতুড়ে’ ভোটার হিসেবে ধরা হয়েছে। এই ভুয়ো ভোটারের সংখ্যাকে ঘিরেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। এর আগেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) অভিযোগ করেছিলেন যে পশ্চিমবঙ্গে নাকি প্রায় ১ কোটি রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বসবাস করছে এবং তাদের বড় অংশের নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে।
আরও পড়ুন: Narendra Modi: জর্ডনে শুরু প্রধানমন্ত্রীর সফর, রাজকীয় সম্মানে বরণ করা হলো ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে
তাঁর (Suvendu Adhikari) দাবি ছিল, এই ভুয়ো ভোটারদের ভোটের জোরেই শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) বারবার ক্ষমতায় ফিরছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছেও একাধিকবার হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছিলেন। বিরোধী শিবিরের তরফে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করা হচ্ছিল যে ভোটার তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম রয়েছে এবং বহু অবৈধ নাগরিকের নাম অন্তর্ভুক্ত আছে। তবে মঙ্গলবার প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকার পরিসংখ্যান সেই অভিযোগের সঙ্গে কার্যত মিল খুঁজে পায়নি। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভুয়ো বা ‘ভূতুড়ে’ ভোটারের সংখ্যা মোট ১ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩২৮। এক কোটি তো দূরের কথা, সেই সংখ্যার ধারেকাছেও পৌঁছয়নি এই হিসাব। বিশেষ নিবিড় সংশোধনী অভিযানের মূল উদ্দেশ্যই ছিল এমন ভুয়ো ভোটারদের চিহ্নিত করে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া। সেই কাজের ফলাফল হিসেবেই এই পরিসংখ্যান সামনে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। শাসক শিবির দাবি করছে, নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান বিরোধীদের (Suvendu Adhikari) অভিযোগকে ভিত্তিহীন প্রমাণ করেছে। অন্যদিকে বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে আরও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যের রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে, যা চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ পর্যন্ত আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
