Parkinsons Disease : মুখের ব্যাক্টেরিয়া থেকে পারকিনসন্সের ঝুঁকি? নতুন গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: মুখের ভিতরের সামান্য একটি ব্যাক্টেরিয়া যে ভবিষ্যতে মারাত্মক স্নায়ুর রোগের কারণ হয়ে উঠতে পারে, তা এত দিন অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক একাধিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা সেই ধারণাকে ভেঙে দিয়েছে। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, মুখ ও দাঁতের স্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলা করলে তার প্রভাব শুধু মুখগহ্বরেই সীমাবদ্ধ থাকে না, তা স্নায়ুর মাধ্যমে সরাসরি মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছোতে পারে। এমনকি পারকিনসন্স রোগের (Parkinsons Disease) মতো জটিল স্নায়বিক সমস্যার সঙ্গেও এর যোগসূত্র পাওয়া যাচ্ছে।

আরও পড়ুন : J P Nadda: শাহের পর এবার নাড্ডা! শমীক ভট্টাচার্যের আমন্ত্রণে কি ফের বঙ্গে আসছেন বিজেপি সভাপতি?

দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্‌থ (NIH) প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়েছে, মুখের ভিতরে জন্মানো ‘স্ট্রেপ্টোকক্কাস মিউট্যান্স’ (Streptococcus mutans) নামের ব্যাক্টেরিয়া দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকলে ভয়াবহ সমস্যা তৈরি করতে পারে। সাধারণত এই ব্যাক্টেরিয়া দাঁতের এনামেল নষ্ট করে, ক্যাভিটি তৈরি করে এবং মাড়িতে ক্ষত সৃষ্টি করে। কিন্তু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই ব্যাক্টেরিয়া ‘ইউরোক্যানেট রিডাক্টেজ়’ (URDase) নামে একটি বিশেষ উৎসেচক তৈরি করে, যা স্নায়ুপথ ধরে মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়। সেখানে গিয়ে এটি স্নায়ুকোষের ক্ষতি করতে শুরু করে, যার ফলস্বরূপ ধীরে ধীরে স্নায়বিক রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এক সময়ে পারকিনসন্সকে (Parkinsons Disease) শুধুমাত্র বয়সজনিত রোগ হিসেবেই দেখা হত। মনে করা হত, বয়স্ক মানুষ বা ব্রেন স্ট্রোকের (Brain Health) রোগীরাই মূলত এই সমস্যায় আক্রান্ত হন। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, কম বয়সি এবং পারিবারিক ইতিহাস না থাকা ব্যক্তিরাও পারকিনসন্সে (Parkinsons Disease) আক্রান্ত হচ্ছেন। এর নেপথ্যে মুখের ব্যাক্টেরিয়ার পাশাপাশি অন্ত্রের একটি বিশেষ প্রোটিনের ভূমিকাও উঠে এসেছে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

গবেষকেরা জানিয়েছেন, অন্ত্রে তৈরি হওয়া ‘আলফা-সিনুক্লিন’ নামের একটি প্রোটিন ভেগাস নার্ভের মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছোতে পারে। এই প্রোটিনের অস্বাভাবিক জমাট বাঁধাই পারকিনসন্সের (Parkinsons Disease) অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। মস্তিষ্কের ‘সাবস্ট্যান্সিয়া নাইগ্রা’ অংশ থেকে ডোপামিন নিঃসরণ কমে গেলেই এই রোগের লক্ষণ দেখা দেয়। ডোপামিন কমে যাওয়ার ফলে স্নায়ুর মধ্যে সংকেত আদানপ্রদান ব্যাহত হয় এবং ধীরে ধীরে স্নায়ুকোষ অকেজো হয়ে পড়ে। গবেষকদের মতে, জিনগত কারণের পাশাপাশি মুখ ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যও পারকিনসন্সের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই কম বয়সে এই রোগ বাড়ার কারণ খুঁজতে গিয়ে এখন দাঁত, মাড়ি এবং হজমতন্ত্রের স্বাস্থ্যের দিকেও বিশেষ নজর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। নিয়মিত মুখের যত্ন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন যে শুধু দাঁত নয়, মস্তিষ্ককেও সুরক্ষিত রাখতে পারে—এমন ইঙ্গিতই দিচ্ছে আধুনিক বিজ্ঞান।