নিউজ পোল ব্যুরো: বর্তমান সময়ে কিডনির (Kidney) নানা সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। শুধু বয়স্করাই নন, কম বয়সিদের মধ্যেও এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কিডনিতে পাথর জমা, সংক্রমণ বা পলিসিস্টিক কিডনির মতো রোগ এখন অনেকের মধ্যেই ধরা পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনির রোগ অনেক সময় খুব ধীরে এবং নিঃশব্দে শরীরে বাসা বাঁধে। তাই শুরুতে অনেকেই বিষয়টি বুঝতে পারেন না। তবে শরীরের কিছু সূক্ষ্ম লক্ষণ আগে থেকেই সতর্কবার্তা দিতে পারে।
আরও পড়ুন:Sunidhi Chauhan| বাতিল হল কলকাতায় সুনিধি চৌহানের অনুষ্ঠান! কেন? সংযম দেখালেন গায়িকা ..
ভারতে কিডনি (Kidney) রোগের হারও ক্রমশ বাড়ছে। বিভিন্ন সমীক্ষা বলছে, গত এক দশকে কিডনি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। শুধু প্রাপ্তবয়স্ক নয়, শিশুদের মধ্যেও এই সমস্যার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাই চিকিৎসকেরা মনে করছেন, প্রাথমিক লক্ষণগুলি সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
কিডনির সমস্যার লক্ষণ অনেক সময় ত্বক ও চোখে ফুটে ওঠে। যেমন—চোখের চারপাশে অস্বাভাবিক ফোলাভাব কিডনি সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর যদি চোখের নীচে ফোলা ভাব দেখা যায় এবং তা সহজে কমে না, তা হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। অনেক সময় কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় প্রোটিন প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যেতে শুরু করে। তার ফলেই চোখের নীচে ফোলা ভাব দেখা দিতে পারে।
দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তনও কিডনির সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে শরীরে রক্তচাপের ওঠানামা হতে পারে। রক্তচাপ বেড়ে গেলে চোখের সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলির উপর চাপ পড়ে এবং তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে রেটিনার উপর প্রভাব পড়ে এবং দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যেতে পারে। এই অবস্থাকে অনেক সময় রেটিনোপ্যাথি বলা হয়।
ত্বকের অবস্থাতেও পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। কিডনি সঠিক ভাবে কাজ না করলে শরীরে টক্সিন জমতে শুরু করে। সেই বিষাক্ত পদার্থ শরীর থেকে ঠিকমতো বেরোতে না পারলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে চুলকানি, ফুসকুড়ি বা র্যাশের মতো সমস্যাও দেখা দেয়। তাই হঠাৎ করে যদি ত্বক খুব বেশি রুক্ষ বা শুষ্ক হয়ে যায়, তা হলেও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
কিছু ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট বা বুকে অস্বস্তিও কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। কিডনি মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে। একই সঙ্গে রক্তে টক্সিন বেড়ে গেলে হৃদ্যন্ত্রের উপরেও চাপ পড়তে পারে, যার ফলে বুকে ব্যথা দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের লক্ষণ বারবার দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ প্রাথমিক অবস্থায় কিডনির রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসা অনেক সহজ হয় এবং বড় ধরনের জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক: https://youtube.com/@thenewspole
