আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কিছুদিন ধরেই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের (Pakistan-Afghanistan) মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। দুই দেশের সীমান্তে পরিস্থিতি এখনও অস্থির এবং সংঘাতের আবহ কাটার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক ঘটনায় আফগানিস্তানের কান্দাহার অঞ্চলে তালিবানদের একটি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে পাকিস্তান (Pakistan) বিমান হামলা চালিয়েছে বলে খবর। ইসলামাবাদ দাবি করেছে, আফগানিস্তানের তরফে ড্রোন হামলার জবাব দিতেই এই আক্রমণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: রক্ত বন্ধ করতে মাথায় সেলাইয়ের পরিবর্তে স্ট্যাপলার পিন! চিকিৎসকের অদ্ভুত কীর্তিতে হতবাক সকলেই
পাকিস্তানের (Pakistan) একাধিক সরকারি সূত্রের দাবি, গত কয়েক দিনে পাকিস্তানের আকাশসীমায় সন্দেহজনক কয়েকটি ড্রোন দেখা যায়। সেগুলিকে প্রতিহত করা হলেও কিছু ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার পর তাদের ধ্বংসাবশেষ বিভিন্ন এলাকায় পড়ে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। কোয়েট্টায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুই শিশু আহত হয়েছে বলে অভিযোগ। এছাড়াও কোহাট ও রাওয়ালপিণ্ডিতে কয়েকজন সাধারণ মানুষ জখম হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার জন্য পাকিস্তান (Pakistan) সরাসরি আফগানিস্তানকেই দায়ী করেছে। পাক সেনার দাবি, আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে তালিবান জঙ্গিরা ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তাদের অভিযোগ, কান্দাহারের একটি সামরিক ঘাঁটি থেকেই এই ড্রোন হামলার পরিকল্পনা ও পরিচালনা করা হয়। এর জবাব হিসেবেই পাকিস্তান বিমান বাহিনী তালিবানদের ঘাঁটিতে এয়ারস্ট্রাইক চালায়। পাকিস্তানের মতে, সেনা ঘাঁটি এবং সাধারণ মানুষের উপর হামলা চালিয়ে তালিবানরা ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করেছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ইসলামাবাদের আকাশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী বলছে, সম্ভাব্য আরও হামলার আশঙ্কা থেকেই এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম সামা টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিমান হামলায় মূলত তালিবানদের প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং অস্ত্র মজুতের সম্ভাব্য ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করা হয়েছিল। যদিও এই ঘটনার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আফগানিস্তান বা তালিবানদের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা চলতে থাকলে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। যার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর। তবে পাকিস্তান আপাতত কঠোর অবস্থানেই রয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
তবে পরিস্থিতি যে একতরফা নয়, সেটাও স্পষ্ট। সুযোগ পেলেই তালিবানরাও পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। কিছু এলাকায় পাকিস্তানের সেনা ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে এই সংঘাতে আফগানিস্তানের পক্ষ থেকেও প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
